জামালপুর সদর উপজেলার দিগপাইত ইউনিয়নের রঘুনাথপুর বড়ভিটা এলাকায় দাঁড়িয়ে থাকা প্রায় দুইশ বছরের পুরোনো একটি মসজিদ বর্তমানে অবহেলা ও সংরক্ষণের অভাবে ধীরে ধীরে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয়দের কাছে ‘পশ্চিম রঘুনাথপুর পুরনো মসজিদ’ নামে পরিচিত এই স্থাপনাটি একসময় এলাকার ধর্মীয় ও সামাজিক জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ছিল।
সময় পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে চারপাশে নানা উন্নয়ন ঘটলেও প্রাচীন এই মসজিদটি রয়ে গেছে অযত্নে। দেয়ালে বড় বড় ফাটল দেখা দিয়েছে, চারপাশে ধুলোবালির আস্তরণ জমেছে এবং শ্যাওলার কারণে মসজিদের আসল রঙও পরিবর্তিত হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে মুসল্লিদের জন্য ওজুখানা কিংবা বসার জায়গাও নেই।
স্থানীয়দের মতে, প্রায় ১৮০০ খ্রিষ্টাব্দের দিকে এই মসজিদটি নির্মাণ করা হয়েছিল। সে সময় আশপাশে অন্য কোনো মসজিদ না থাকায় বিলপাড়ের পাশে এটি স্থাপন করা হয়। একসময় দূরদূরান্তের মানুষ বিশেষ করে জুমার নামাজ আদায়ের জন্য এখানে আসতেন।
প্রায় ১৫ শতক জমির ওপর নির্মিত এই মসজিদের ভেতরে একসঙ্গে প্রায় ২৫ জন মুসল্লি নামাজ আদায় করতে পারেন। বহু বছর আগে একবার স্থানীয়ভাবে মসজিদটির কিছু সংস্কার করা হলেও বর্তমানে আবারও এটি জরাজীর্ণ হয়ে পড়েছে এবং ধ্বংসের ঝুঁকিতে রয়েছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মসজিদটির জরাজীর্ণ অবস্থার ছবি ছড়িয়ে পড়ার পর অনেক মানুষ এ বিষয়ে জানতে পারেন। আগ্রহ থেকে অনেকে মসজিদটি দেখতে এবং নামাজ আদায় করতে সেখানে যাচ্ছেন।
জামালপুর শহর ও ইসলামপুর থেকে নামাজ পড়তে আসা মহসিন কাকন ও সিহাব বাবু বলেন, ‘সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে মসজিদটির ছবি দেখে আমরা এখানে আসি। পুরোনো মসজিদে নামাজ পড়তে ভালো লাগল, কিন্তু মসজিদটির অবস্থা সত্যিই অনেক খারাপ। দ্রুত সংস্কার না হলে এটি হয়তো আর কিছুদিন পর থাকবে না।’
আরেক দর্শনার্থী জানান, দেশের বিভিন্ন স্থানে শত শত বছরের পুরোনো স্থাপনা সংরক্ষণের অভাবে হারিয়ে গেছে। দ্রুত উদ্যোগ না নিলে এই মসজিদটিও সেই তালিকায় যুক্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
এ বিষয়ে জামালপুর সদর উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা জিন্নাত শহীদ পিংকি বলেন, ‘এখন পর্যন্ত কেউ মসজিদটি সংস্কারের আবেদন নিয়ে আসেনি। আবেদন পেলে আমরা খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।’
সিএ/এমআর


