ইরানের প্রাচীন নাম পারস্য। ইতিহাসে এই অঞ্চল দীর্ঘ সময় ধরে শক্তিশালী সাম্রাজ্যের কেন্দ্র হিসেবে পরিচিত ছিল। প্রাচীন নিনেভের অসিরীয় সাম্রাজ্যের অধীনে থাকা পারস্য পরে নিজেদের শক্তি বৃদ্ধি করে বড় একটি সাম্রাজ্যে পরিণত হয়। খ্রিস্টপূর্ব প্রায় ৫০০ থেকে ৬০০ বছর আগে পারসিকরা অসিরীয় শাসন উৎখাত করে নিনেভ দখল করে নেয় এবং নতুন শক্তিশালী সাম্রাজ্য প্রতিষ্ঠা করে।
এই সাম্রাজ্যের শাসকদের মধ্যে কাইরাস, দারিয়ুস ও জেরোকসিস বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য। ইতিহাসে তাদের শাসনামল একিমেনিড রাজবংশ নামে পরিচিত। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পারস্য সাম্রাজ্যের শাসনব্যবস্থা ও ভৌগোলিক বিস্তার বদলালেও এটি দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ শক্তি হিসেবে টিকে ছিল।
১৯৩৫ সাল পর্যন্ত ইরানকে পারস্য নামেই বেশি পরিচিত করা হতো। প্রাচীন পারস্য সাম্রাজ্যের ভৌগোলিক পরিসর বর্তমান ইরানের চেয়ে অনেক বড় ছিল। কয়েক শতাব্দী ধরে তারা প্রাচীন গ্রিসের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে পরিচিত ছিল এবং রোমান সাম্রাজ্যের সঙ্গেও তাদের দীর্ঘদিন সংঘাত চলেছে।
রাসুলুল্লাহ সা. তখনো মদিনায় হিজরত করেননি এবং মক্কায় অবস্থান করছিলেন। সে সময় রোমান সাম্রাজ্য ধারাবাহিকভাবে পারসিকদের কাছে যুদ্ধে পরাজিত হচ্ছিল। ৬১৫ খ্রিস্টাব্দে পারসিক বাহিনী দামেস্ক দখল করার পর জেরুজালেম পর্যন্ত অগ্রসর হয়।
এই ঘটনার প্রভাব মক্কার সমাজেও পড়ে। মক্কার কাফেররা পারসিকদের বিজয়ে আনন্দ প্রকাশ করে, কারণ পারসিকরা তাদের মতোই পৌত্তলিক বিশ্বাসে বিশ্বাসী ছিল। অন্যদিকে রোমানরা নবী ও আসমানি কিতাবের প্রতি বিশ্বাসী হওয়ায় মুসলমানদের সঙ্গে তাদের কিছু বিশ্বাসগত মিল ছিল।
এ সময় পবিত্র কোরআনে একটি আয়াত নাজিল হয় যেখানে বলা হয়, ‘রোমানরা পরাজিত হয়েছে নিকটবর্তী এলাকায় এবং তারা তাদের পরাজয়ের পর শিগগিরই জয়লাভ করবে, কয়েক বছরের মধ্যেই। আগের ও পরের সিদ্ধান্ত আল্লাহরই। আর সেদিন মোমিনরা আনন্দিত হবে।’ (সুরা রুম : ২-৪)।
এই ভবিষ্যদ্বাণী শুনে মক্কার মুসলমানরা আশাবাদী হয়ে ওঠেন। আবু বকর রা. ঘোষণা করেন যে অচিরেই রোমানরা আবার বিজয়ী হবে। এ সময় উবাই ইবনে খলফ তার সঙ্গে তর্কে জড়ান এবং এই বিষয়টি নিয়ে শর্তও স্থির হয়।
পরবর্তীতে মহানবী সা. আবু বকর রা.-কে সময়সীমা তিন বছরের বদলে তিন থেকে নয় বছর নির্ধারণ করার পরামর্শ দেন। পরে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই রোমানরা পারসিকদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জয়লাভ করে।
ইতিহাসবিদদের বর্ণনা অনুযায়ী, হিজরতের প্রায় পাঁচ বছর আগে এ ঘটনা ঘটে এবং কয়েক বছরের মধ্যেই রোমান বাহিনী পারসিকদের বিরুদ্ধে বড় ধরনের বিজয় অর্জন করে। ৬২৪ সালে রোমানরা পারসিকদের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় স্থাপনা ধ্বংস করে এবং যুদ্ধে প্রাধান্য ফিরে পায়।
সিএ/এমআর


