ইসলামে সদকার গুরুত্ব অত্যন্ত বেশি। সাধারণভাবে মানুষ দান-খয়রাতের মাধ্যমে সদকার সওয়াব অর্জন করে থাকে। তবে দানের বাইরেও এমন কিছু সহজ কাজ রয়েছে, যেগুলো করলেও সদকার সওয়াব পাওয়া যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো পথের কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দেওয়া।
মানুষের চলাচলের পথে কাঁটা, পাথর বা অন্যান্য বাধা সরিয়ে দেওয়া পথচারীদের জন্য নিরাপদ পরিবেশ তৈরি করে। এই কাজের মাধ্যমে অন্যের উপকার সাধন হয় এবং এটিও ইসলামের দৃষ্টিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সদকা হিসেবে বিবেচিত।
রাসুল (সা.) বলেন, পথের কষ্টদায়ক জিনিস সরিয়ে দেওয়া সদকা। (মুসলিম : ১০০৯)
অন্য এক হাদিসে রাসুল (সা.) আবু জর গিফারি (রা.)-কে বেশ কিছু উপদেশ দেন। তার মধ্যে একটি ছিল, রাস্তা থেকে পাথর, কাঁটা বা হাড় সরিয়ে দেওয়াও একটি সদকা। (তিরমিজি : ১৯৫৬)
হাদিসে আরও উল্লেখ রয়েছে, মানুষের চলাচলের পথে থাকা একটি কাঁটার ডাল সরিয়ে দেওয়ার কারণে একজন ব্যক্তি আল্লাহর পক্ষ থেকে ক্ষমা লাভ করেছিলেন। রাসুল (সা.) বলেন, এক ব্যক্তি রাস্তায় চলতে চলতে একটি কাঁটার ডাল দেখতে পেল। সে সেটিকে সরিয়ে দিল। আল্লাহ তার এ কাজের কদর করলেন এবং তাকে পাপমুক্ত করে দিলেন। (মুসলিম : ৫০৪৯)
অর্থাৎ মানুষের উপকারে আসে এমন ছোট ছোট কাজও আল্লাহর কাছে অত্যন্ত মূল্যবান হতে পারে। রাস্তার ওপর থাকা কোনো কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে দিলে পথচারীরা নিরাপদে চলাচল করতে পারেন এবং এতে সমাজে পারস্পরিক সহমর্মিতার পরিবেশ তৈরি হয়।
ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী একজন মুমিন অন্যের কষ্ট দূর করার চেষ্টা করেন এবং অন্যের উপকারে আসতে আগ্রহী থাকেন। তাই রাস্তার ওপর কষ্টদায়ক কিছু চোখে পড়লে তা সরিয়ে দেওয়াকে ঈমানের অংশ হিসেবেও উল্লেখ করা হয়েছে।
একই সঙ্গে রাস্তা বা জনসমাগমস্থল নোংরা করার বিষয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, দুই অভিশাপকারী থেকে তোমরা সতর্ক থাক। সাহাবিরা জিজ্ঞেস করলেন, দুই অভিশাপকারী কী। তিনি বললেন, যে মানুষের চলাচলের পথে অথবা তাদের ছায়া নেওয়ার স্থানে পেশাব-পায়খানা করে। (মুসলিম : ২৬৯)
এই হাদিসগুলো থেকে বোঝা যায়, সমাজে নিরাপদ ও পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করা ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষার অংশ।
সিএ/এমআর


