পবিত্র রমজান মাস মুসলমানদের জন্য রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের এক অনন্য সময়। এই মাসে ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে আত্মশুদ্ধি অর্জনের বিশেষ সুযোগ রয়েছে। ইসলামের শিক্ষা অনুযায়ী, রমজানের প্রতিটি মুহূর্ত আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের জন্য কাজে লাগানোই মুমিনদের লক্ষ্য হওয়া উচিত।
রমজানের ফজিলত সম্পর্কে রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘রমজান- বরকতময় মাস তোমাদের দুয়ারে উপস্থিত হয়েছে। পুরো মাস রোজা পালন আল্লাহ তোমাদের জন্য ফরজ করেছেন। এ মাসে জান্নাতের দরজা উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়; বন্ধ করে দেয়া হয় জাহান্নামের দরজাগুলো। দুষ্টু শয়তানদের এ মাসে শৃঙ্খলাবদ্ধ করে দেয়া হয়। এ মাসে আল্লাহ কর্তৃক একটি রাত প্রদত্ত হয়েছে, যা হাজার মাস থেকে উত্তম। যে এর কল্যাণ থেকে বঞ্চিত হলো, সে (মহা কল্যাণ থেকে) বঞ্চিত হলো।’ (তিরমিজি : ৬৮৩)।
ইসলামের পাঁচটি মূল স্তম্ভের অন্যতম হলো রোজা। রমজান মাসে রোজা রাখা প্রত্যেক সক্ষম মুসলমানের জন্য ফরজ। পবিত্র কোরআনে বলা হয়েছে, ‘তোমাদের মধ্যে যে মাসটিতে উপস্থিত হবে, সে যেন তাতে রোজা রাখে।’ (সুরা বাকারা : ১৮৫)। রোজার মাধ্যমে আত্মসংযম, ধৈর্য ও তাকওয়া অর্জনের শিক্ষা পাওয়া যায়।
রমজান মাসে ফরজ নামাজ যথাসময়ে এবং জামায়াতের সঙ্গে আদায় করার ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কোরআনে উল্লেখ আছে, ‘নিশ্চয় নামাজ মুমিনদের ওপর নির্দিষ্ট সময়ে ফরজ।’ (সুরা নিসা : ১০৩)।
রোজা পালনের ক্ষেত্রে সাহরি খাওয়া গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। সাহরির মধ্যে বরকত রয়েছে বলে হাদিসে উল্লেখ করা হয়েছে। ‘সেহরি হলো বরকতময় খাবার। তাই কখনও সেহরি খাওয়া বাদ দিও না। এক ঢোক পানি পান করে হলেও সেহরি খেয়ে নাও।’ (মুসনাদ আহমাদ : ১১১০১)।
ইফতার দ্রুত করা এবং অন্যকে ইফতার করানোর মধ্যেও রয়েছে বড় সওয়াব। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি কোনো রোজাদারকে ইফতার করাবে, সে তার সমপরিমাণ সওয়াব লাভ করবে।’ (ইবনে মাজা : ১৭৪৬)।
এ ছাড়া তারাবির নামাজ আদায়, কোরআন তিলাওয়াত, দোয়া-ইস্তেগফার এবং রমজানের শেষ দশকে এতেকাফের মতো গুরুত্বপূর্ণ আমল রয়েছে। বিশেষ করে শেষ দশকে লাইলাতুল কদর অনুসন্ধানের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যে রাতকে কোরআনে হাজার মাসের চেয়েও উত্তম বলা হয়েছে।
ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, রমজানের এই মহিমান্বিত সময় যেন অপ্রয়োজনীয় ব্যস্ততায় নষ্ট না হয়। বরং ইবাদত ও আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে এই মাসের বরকত অর্জনের চেষ্টা করা উচিত।
সিএ/এমআর


