রমজান মাস সংক্ষিপ্ত হলেও আত্মশুদ্ধি, ক্ষমা লাভ এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের জন্য এটি মুসলমানদের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সময়। এই মাসের প্রতিটি দিন দ্রুত চলে যায়, তাই ইবাদত-বন্দেগির মাধ্যমে সময়কে অর্থবহ করে তোলার তাগিদ দিয়েছেন ইসলামী চিন্তাবিদরা।
রমজানে জিহ্বাকে জিকিরে, অন্তরকে তওবায় এবং দোয়াকে জান্নাতের প্রত্যাশা ও জাহান্নাম থেকে মুক্তির প্রার্থনায় ব্যস্ত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষ করে চারটি আমল বেশি বেশি করার কথা বলা হয়েছে।
হাদিসে উল্লেখ আছে, রাসুল (সা.) তাঁর উম্মতকে রমজানে চারটি আমল বেশি করার নির্দেশনা দিয়েছেন। এর মধ্যে দুটি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং দুটি এমন আমল যা করা ছাড়া বান্দার উপায় নেই।
প্রথম আমল হলো কালিমা বেশি বেশি পড়া। “লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” তাওহিদের মূল বাক্য এবং ইসলামে সর্বশ্রেষ্ঠ জিকির হিসেবে বিবেচিত। এই কালিমা আন্তরিকতার সঙ্গে পড়লে মানুষ আল্লাহর একত্ব স্বীকার করে এবং শিরক থেকে নিজেকে দূরে রাখে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, “সর্বোত্তম জিকির হলো লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ।” রমজানে এই জিকির বেশি পড়লে ঈমান শক্তিশালী হয় এবং অন্তর পরিশুদ্ধ হয়।
দ্বিতীয় গুরুত্বপূর্ণ আমল হলো ইস্তিগফার করা। মানুষ প্রতিনিয়ত ভুল ও গুনাহে জড়িয়ে পড়ে, তাই আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করা অত্যন্ত জরুরি। রমজান মাসে আন্তরিকভাবে ইস্তিগফার করলে বান্দা আল্লাহর রহমতের আরও কাছাকাছি পৌঁছাতে পারে।
সংক্ষিপ্ত ইস্তিগফার হিসেবে “আল্লাহুম্মাগফিরলী” দোয়া পড়া যায়। এছাড়া সাইয়িদুল ইস্তিগফার ও অন্যান্য পূর্ণাঙ্গ ইস্তিগফারও পাঠ করার গুরুত্ব রয়েছে।
তৃতীয় আমল হলো জান্নাত প্রার্থনা করা। জান্নাত মুমিনের চূড়ান্ত গন্তব্য। তাই আল্লাহর কাছে জান্নাতুল ফিরদাউস প্রার্থনা করার কথা হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমরা যখন আল্লাহর কাছে কিছু চাইবে, তখন জান্নাতুল ফিরদাউস চাইবে। কারণ তা জান্নাতের সর্বোচ্চ ও সর্বোত্তম স্থান।”
চতুর্থ আমল হলো জাহান্নাম থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করা। জাহান্নামের শাস্তি ভয়াবহ ও কল্পনাতীত বলে ইসলামী শিক্ষায় বর্ণনা করা হয়েছে। তাই আল্লাহর কাছে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তির জন্য দোয়া করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
জাহান্নাম থেকে মুক্তির জন্য একটি দোয়া হলো “আল্লাহুম্মা আজিরনি মিনান নার।” অর্থাৎ হে আল্লাহ আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্তি দিন।
ইসলামী চিন্তাবিদরা মনে করেন, এই চারটি আমল শুধু রমজান মাসেই নয়, সারা বছর জীবনের অংশ হিসেবে পালন করা উচিত। তবে রমজানে অন্য ইবাদতের পাশাপাশি এই গুরুত্বপূর্ণ আমলগুলো বেশি করার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
সিএ/এমআর


