উত্তর মেরুর কাছাকাছি অবস্থিত বিশাল দ্বীপদেশ গ্রিনল্যান্ড। বছরের অধিকাংশ সময় যেখানে তীব্র ঠান্ডা আর দীর্ঘ রাত বিরাজ করে, সেই বরফাচ্ছন্ন পরিবেশেই বসবাস করছেন অল্পসংখ্যক মুসলিম। কঠিন প্রাকৃতিক পরিবেশের মধ্যেও তারা ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করে চলেছেন।
রাজধানী নুক শহরে বর্তমানে দশজনের বেশি মুসলিম বসবাস করেন বলে জানা যায়। তাদের অনেকেই মিসর, মরক্কো, তিউনিসিয়া, তুরস্ক ও ফিলিস্তিন থেকে কাজ বা জীবিকার খোঁজে সেখানে গেছেন। কেউ কেউ আবার দীর্ঘদিন ধরে সেখানে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।
রমজান মাসে তাদের জন্য ইফতার আয়োজন হয়ে ওঠে বিশেষ এক মিলনমেলা। বরফে ঢাকা পরিবেশে ছোট একটি কাঠের ঘরে বসে আয়োজন করা হয় ইফতার। টেবিলে থাকে ধোঁয়া ওঠা গরম রুটি, ফিলিস্তিনি ঐতিহ্যবাহী মসুর ডালের স্যুপ এবং মুরগি-ভাতের বিভিন্ন পদ। হাজার হাজার কিলোমিটার দূরের মধ্যপ্রাচ্যের স্বাদ যেন সেই দূর উত্তরের শহরে জীবন্ত হয়ে ওঠে।
২০২৬ সালে গ্রিনল্যান্ডে রোজার সময়কাল প্রায় ১৭ ঘণ্টা ৩০ মিনিট। তবে বছরের ভিন্ন সময়ে এটি আরও দীর্ঘ হতে পারে। কখনো কখনো সূর্য দীর্ঘ সময় অস্ত না যাওয়ায় রোজার সময় ২০ থেকে ২২ ঘণ্টাও হয়ে থাকে।
স্থানীয় গ্রিনল্যান্ডারদের সঙ্গেও মুসলিমদের একটি সামাজিক সম্পর্ক তৈরি হয়েছে। শহরের বিভিন্ন স্থানে ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়ে দেয়ালে আঁকা চিত্রও দেখা যায়। স্থানীয়দের অনেকেই মুসলিমদের ধর্মীয় চর্চার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেন বলে জানিয়েছেন সেখানে বসবাসরতরা।
ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত রাকান মনসুর জানান, গ্রিনল্যান্ডের আদিবাসী জনগোষ্ঠী দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের সামাজিক ও রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার কারণে তারা ফিলিস্তিনিদের কষ্ট ও সংগ্রামের বিষয়টি সহজেই উপলব্ধি করতে পারেন।
তিনি বলেন, “গ্রিনল্যান্ডের আদিবাসীরাও দীর্ঘকাল নিপীড়নের শিকার হয়েছে, তাই তারা ফিলিস্তিনিদের কষ্ট বোঝে। এখানে ‘আল্লাহু আকবার’ শুনলে তারা বিরূপ হয় না, বরং শ্রদ্ধা করে।”
গ্রিনল্যান্ডে দীর্ঘ শীতকাল ও একাকীত্বের কারণে মানসিক সমস্যার হার তুলনামূলক বেশি। রাকান জানান, তার কয়েকজন বন্ধুও আত্মহত্যা করেছে। এমন পরিস্থিতিতে ইসলাম তাদের জন্য মানসিক শক্তি ও আশার উৎস হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মিসরীয় বংশোদ্ভূত ওমর হাবিবি প্রায় ১৫ বছর ধরে গ্রিনল্যান্ডে বসবাস করছেন। তিনি বলেন, “এখানে বর্ণবাদ কম, মানুষগুলো সহজ-সরল। তাই ইউরোপের অন্য দেশগুলোর চেয়ে গ্রিনল্যান্ডে জীবন কাটানো অনেক সহজ।”
এই কঠিন আবহাওয়ার মধ্যেও মুসলিমরা ধর্মীয় অনুশীলন বজায় রেখে স্থানীয় সমাজের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলছেন। বরফের নিস্তব্ধতার মাঝেও তাদের জন্য রমজান হয়ে ওঠে আধ্যাত্মিক শক্তি ও মিলনের সময়।
সিএ/এমআর


