পবিত্র মাহে রমজান উপলক্ষে দেশের বিভিন্ন মসজিদে জুমার খুৎবা-পূর্ব বয়ানে ইসলামের গুরুত্বপূর্ণ বিধান ও ইবাদতের গুরুত্ব তুলে ধরেছেন খতিবরা। বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুল মালেক বলেন, মাহে রমজান আল্লাহ’র দেয়া বড় নেয়ামতের মাস এবং এটি তাকওয়া অর্জনের মাস।
তিনি বলেন, দিনে রোজা রাখা, রাতে তারাবিহ ও তাহাজ্জুত আদায় করা, লজ্জাস্থানকে পবিত্র রাখা এবং সব ধরনের গুনাহ থেকে বিরত থাকাই প্রকৃত রোজার হক। এসব আমলের মাধ্যমেই একজন মুমিন জান্নাত লাভের সুযোগ পেতে পারে।
খতিব আরও বলেন, কাদিয়ানীরা মুসলমানদের ঈমান বিনষ্ট করছে। মুসলমানদের দোকানে কাদিয়ানীদের পণ্যে সয়লাব। কাদিয়ানীদের পণ্য দিয়ে ইফতার করলে ঈমান থাকে না। তিনি সুন্নতে মুয়াক্কাদাহ আদায়ের গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, নিয়মিত অযিফা পালন ও নফল আমল করলে আল্লাহর নৈকট্য লাভ করা যায়।
টঙ্গীর পূর্ব আরিচপুর সরকার বাড়ি ঈদগাহ মসজিদুল আকসার খতিব মাওলানা রিয়াদুল ইসলাম মল্লিক বলেন, যাকাত ইসলামের পাঁচ স্তম্ভের একটি এবং এটি ফরজ ইবাদত। যাকাত শব্দের আভিধানিক অর্থ পবিত্রতা ও প্রবৃদ্ধি। কুরআনের বহু আয়াতে নামাজের পাশাপাশি যাকাত আদায়ের নির্দেশ এসেছে।
তিনি বলেন, আল্লাহ তাআলা মানুষকে কখনো সম্পদ দিয়ে আবার কখনো সম্পদ হরণ করে পরীক্ষা করেন। ধনী-গরিবের এই পার্থক্যের মধ্য দিয়েই সমাজের ভারসাম্য বজায় থাকে। আল্লাহ ধনীদের সম্পদে গরিবদের নির্ধারিত অধিকার রেখেছেন।
মিরপুরের বাইতুল মামুর জামে মসজিদের খতিব মুফতি আব্দুর রহিম কাসেমী বলেন, যাকাত ইসলামের তৃতীয় প্রধান স্তম্ভ এবং এটি গরিবের ন্যায্য অধিকার। যাকাত আদায়ের মাধ্যমে সমাজে দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব এবং সম্পদের পবিত্রতা অর্জিত হয়।
তিনি আরও বলেন, যাকাত প্রদানের মাধ্যমে মানুষের সম্পদে বরকত আসে, গুনাহ মাফ হয় এবং সমাজে ধনী-গরিবের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সহমর্মিতা বৃদ্ধি পায়। কুরআন ও হাদিসে যাকাত আদায় না করলে কঠোর শাস্তির কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।
মুগদা এলাকার একাধিক মসজিদের খতিবরা বলেন, রমজান মাস মাগফিরাতের মৌসুম। এ মাসে বেশি বেশি নেক আমল, দান-সদকা এবং আল্লাহর কাছে তওবা করা উচিত। রোজাদারের দোয়া ইফতারের সময় কবুল হওয়ার কথা উল্লেখ করে তারা মুসল্লিদের বেশি করে দোয়া করার আহ্বান জানান।
সিএ/এমআর


