ইসলামের পাঁচটি স্তম্ভের একটি হলো জাকাত। পবিত্র কোরআনে জাকাত শব্দটি বহুবার এসেছে এবং নামাজের সঙ্গে একযোগে এর গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছে। জাকাত প্রদান করলে সম্পদ পবিত্র হয় এবং সমাজে অর্থনৈতিক ভারসাম্য প্রতিষ্ঠিত হয় বলে ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন।
জাকাতের সঙ্গে ইনফাক ও সদকার সম্পর্ক রয়েছে। ইনফাক অর্থ আল্লাহর পথে ব্যয় করা এবং সদকা অর্থ সততা ও সত্যবাদিতা। সদকা প্রদানের মাধ্যমে একজন মুসলমান তাঁর ইমানের দাবির সত্যতা ও অন্তরের সততার প্রমাণ দেন।
নিসাব পরিমাণ সম্পদের মালিক হলে এক চান্দ্রবর্ষ পূর্ণ হওয়ার পর জাকাত ফরজ হয়। এরপর প্রতি চান্দ্রবর্ষে একবার জাকাত প্রদান করতে হয়। সোনা, রুপা, নগদ অর্থ ও ব্যবসার পণ্যের ওপর প্রতিবছর ২ দশমিক ৫ শতাংশ হারে জাকাত দিতে হয়। সৌরবর্ষ অনুযায়ী হিসাব করলে এই হার ২ দশমিক ৫৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়।
জাকাত প্রদান না করলে হালাল সম্পদও অপবিত্র হয়ে যেতে পারে বলে আলেমরা সতর্ক করেছেন। হালাল উপার্জন ও সম্পদ ছাড়া নামাজ, রোজা ও হজের মতো ইবাদত কবুল হয় না বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
ব্যক্তিগত ব্যবহারের জন্য রাখা জায়গা, জমি, বাড়ি ও গাড়ি জাকাতের আওতায় পড়ে না। তবে বিক্রয়ের উদ্দেশ্যে রাখা বাড়ি, ফ্ল্যাট, প্লট ও জমির বর্তমান বাজারমূল্য অনুযায়ী জাকাত প্রদান করতে হয়। জাকাতযোগ্য সম্পদ থেকে তাৎক্ষণিক পরিশোধযোগ্য ঋণ বাদ দিয়ে অবশিষ্ট অংশের জাকাত হিসাব করতে হয়।
সিএ/এমআর


