ইসলামি ইতিহাসে ১০ রমজান একটি তাৎপর্যপূর্ণ দিন হিসেবে পরিচিত। এই দিনে যেমন রয়েছে শোক ও বেদনাবিধুর স্মৃতি, তেমনি রয়েছে বিজয়, প্রতিরোধ ও রাজনৈতিক পরিবর্তনের গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। ইসলামি ইতিহাসের ক্যালেন্ডারে দিনটি ‘সার্বভৌমত্ব ও সম্মান পুনরুদ্ধারের দিন’ হিসেবেও চিহ্নিত।
নবুয়তের দশম বছর, হিজরতের তিন বছর আগে ১০ রমজান মহানবী (সা.) তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় মানসিক অবলম্বন হজরত খাদিজা বিনতে খুওয়াইলিদ (রা.)–কে হারান। চাচা আবু তালিবের ইন্তেকালের অল্প সময়ের মধ্যেই তাঁর বিদায় নবীজির জীবনে গভীর শূন্যতা তৈরি করে। ইতিহাসে এই সময়কাল ‘আমুল হুজন’ বা শোকের বছর হিসেবে পরিচিত। মক্কার কঠিন সময়ে খাদিজা (রা.) নবীজিকে সামাজিক ও মানসিকভাবে আগলে রেখেছিলেন বলে ঐতিহাসিকরা উল্লেখ করেছেন।
এর এক দশক পর একই দিনে, ৮ হিজরির ১০ রমজানে, দশ হাজার সাহাবির বিশাল বাহিনী নিয়ে মদিনা থেকে মক্কার উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন মহানবী (সা.)। হোদাইবিয়ার সন্ধি ভঙ্গের প্রেক্ষাপটে এই অভিযানের মাধ্যমে পরবর্তী সময়ে ২০ রমজানে মক্কা বিজয় সংঘটিত হয়, যা আরবে ইসলামের বিজয় নিশ্চিত করে।
১০ রমজান মুসলিম রাজনৈতিক ইতিহাসেও এক শোকাবহ দিন। ৪৮৫ হিজরির এই দিনে সেলজুক সাম্রাজ্যের প্রভাবশালী উজির নিজামুল মুলক নাসিরুিদ্দন তুসি গুপ্তঘাতকদের হাতে নিহত হন। প্রশাসনিক দক্ষতা ও শিক্ষা বিস্তারে তাঁর অবদান অনস্বীকার্য। ইতিহাসবিদদের মতে, তাঁর মৃত্যুই সেলজুক সাম্রাজ্যের দুর্বলতার সূচনা করে।
এ ছাড়া মিসরের মানসুরায় সপ্তম ক্রুসেডে ক্রুসেডারদের পরাজয় এবং ১৯৭৩ সালের অক্টোবর যুদ্ধ—যা রমজান যুদ্ধ নামে পরিচিত—এই দিনটির ঐতিহাসিক গুরুত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সিএ/এমআর


