রমজান এলেই লিবিয়ায় নেমে আসে আধ্যাত্মিকতা, ঐতিহ্য ও আতিথেয়তার বিশেষ আবহ। ত্রিপোলির প্রাচীন অলিগলি থেকে বেনগাজির সমুদ্রতীর—পুরো দেশজুড়ে রমজান মানেই এক ধরনের প্রশান্তি ও সামাজিক বন্ধনের সময়। দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও রমজানের উষ্ণতা লিবীয় সমাজে অটুট রয়েছে।
রাজধানী ত্রিপোলিতে রমজান আসে বিশেষ আভিজাত্য নিয়ে। এখানে আন্দালুসীয় ও সুফি সংস্কৃতির প্রভাব স্পষ্ট। ইফতারে রোজাত্তা নামের বিশেষ পানীয় পরিবেশন করা হয়, যা কাঠবাদাম বা বার্লির নির্যাস থেকে তৈরি। রাতের আড্ডায় জনপ্রিয় হলো শাই বিল শাকশুকা নামের ঘন ফেনাযুক্ত সবুজ চা।
বেনগাজির সুক আল-হুত বা মাছের বাজার রমজানে নতুন প্রাণ ফিরে পায়। যুদ্ধের ক্ষত পেরিয়ে এখানে পরিবারভিত্তিক উদ্যোগে ঘরে তৈরি খাবার বিক্রি হয়, যা পারিবারিক ঐক্যের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।
লিবিয়াকে বলা হয় এক মিলিয়ন হাফেজের দেশ। রমজানজুড়ে মসজিদগুলো কোরআন তিলাওয়াতে মুখর থাকে। শিশুদের উৎসাহ দিতে বিভিন্ন এলাকায় হাফেজদের প্রতিযোগিতাও আয়োজন করা হয়। তারাবির পর বসে মালুফ নামের ঐতিহ্যবাহী সুফি সংগীতের আসর।
ইফতার টেবিলে লিবীয় শোরবা, এমবাতান ও বাজিনের মতো খাবার বিশেষ স্থান দখল করে আছে। পাশাপাশি জৌকা নামের ঐতিহ্যের মাধ্যমে প্রতিবেশীদের মধ্যে খাবার বিনিময়ের সংস্কৃতি লিবীয় আতিথেয়তাকে আরও সমৃদ্ধ করে।
সিএ/এমআর


