খ্রিস্টানপ্রধান দেশ কলম্বিয়ায় মুসলমানদের সংখ্যা মোট জনসংখ্যার শূন্য দশমিক দুই শতাংশেরও কম। জনসংখ্যার বড় অংশ খ্রিস্টান হলেও দেশটির সমাজে ধীরে ধীরে পরিচিত হয়ে উঠছে মুসলিম সম্প্রদায়। শহরের কেন্দ্রজুড়ে গির্জার ঘণ্টাধ্বনির মধ্যেও রমজান মাসে মুসলমানদের ধর্মীয় আয়োজন আলাদা করে নজর কাড়ছে।
স্থানীয় ইসলামিক কেন্দ্রগুলোর হিসাবে কলম্বিয়ায় মুসলমানের সংখ্যা প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার। তবে আন্তর্জাতিক গবেষণা সংস্থার তথ্যমতে, আরব বংশোদ্ভূত অভিবাসীদের ধরলে এই সংখ্যা এক লাখ পর্যন্ত হতে পারে।
সংখ্যায় কম হলেও কলম্বিয়ার মুসলিম সমাজে রয়েছে বিস্ময়কর বৈচিত্র্য। কেউ দীর্ঘদিনের অভিবাসী, কেউ আবার ধর্মান্তরিত মুসলমান। রমজান শুরুর আগে বোগোতা ও মেডেলিনের মতো শহরের মসজিদগুলো আলোকসজ্জা ও ব্যানারে সাজানো হয়।
মেডেলিনের উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি ছোট মসজিদের সামনে সোনালি অক্ষরে লেখা রমজান কারিম কলম্বিয়ার ভিন্ন বাস্তবতায় রমজানের আবহ তৈরি করে। এখানে কলম্বিয়ানদের পাশাপাশি ত্রিনিদাদ ও টোবাগো, তিউনিসিয়া, পাকিস্তানসহ বিভিন্ন দেশের মুসলমানদের উপস্থিতি দেখা যায়।
অভিবাসী মুসলমানদের অনেকেই নিজ দেশের রমজানের জাঁকজমক মিস করেন। তবে সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিস্থিতি বদলেছে। এখন মেডেলিনসহ বিভিন্ন শহরে একাধিক মসজিদ গড়ে উঠেছে।
রমজানে ইফতার আয়োজনেও রয়েছে বৈচিত্র্য। কোথাও মধ্যপ্রাচ্যের খাবার, কোথাও পাকিস্তানি রান্না, আবার কোথাও খাঁটি কলম্বিয়ান পদ পরিবেশন করা হয়। এই ভিন্নতাই কলম্বিয়ার রমজানকে করে তুলেছে অনন্য।
মুসলিম নেতারা মনে করেন, রমজান শুধু ইবাদতের মাস নয়, বরং সামাজিক ন্যায়বিচার ও পারস্পরিক বোঝাপড়া গড়ে তোলার সময়। যাকাত ও দানের মাধ্যমে অভুক্তদের পাশে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে কলম্বিয়ায় রমজান সব ধর্মের মানুষের সঙ্গে সংযোগের মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
সিএ/এমআর


