পবিত্র মাহে রমজান শুধু দিনের রোজার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং রাতের ইবাদতের মাধ্যমেও এই মাসের তাৎপর্য প্রকাশ পায়। রমজানের রাতের বিশেষ ইবাদত হিসেবে পরিচিত তারাবির নামাজ মুসলিম সমাজে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে পালিত হয়। এটি সুন্নতে মুয়াক্কাদা, যা রাসুলুল্লাহ ﷺ নিয়মিত আদায় করেছেন এবং সাহাবায়ে কেরামও গুরুত্ব দিয়েছেন।
আলেমদের মতে, তারাবির নামাজ আদায় করলে বান্দার আল্লাহর নৈকট্য বৃদ্ধি পায় এবং পূর্বের গুনাহ মাফের আশা করা যায়। সাধারণত এশার ফরজ ও সুন্নত নামাজের পর তারাবি আদায় করা হয়। দুই রাকাত করে সর্বোচ্চ ২০ রাকাত পড়ার প্রচলন রয়েছে, যদিও অনেক আলেমের মতে ৮ রাকাতও আদায় করা যায়।
এই নামাজে দীর্ঘ কিয়াম ও ধীরস্থির তিলাওয়াত সুন্নত। কুরআন তিলাওয়াত খুশু ও মনোযোগের সঙ্গে আদায় করা হয়। হজরত উমর (রা.)-এর সময় থেকে মসজিদে জামাতে তারাবি আদায়ের রীতি চালু হয়। তবে কেউ চাইলে ঘরে একাকী আদায় করলেও নামাজ সহিহ হয়।
তারাবির নামাজের জন্য মন থেকে নিয়ত করাই যথেষ্ট। সাধারণত দুই রাকাতের জন্য এই নিয়ত করা হয়—
নাওয়াইতু আন উসাল্লিয়া লিল্লাহি তা‘আলা রাক‘আতাইনি সালাতাত তারাবীহি, মুস্তাকবিলাল কিবলাতি, আল্লাহু আকবার।
এর অর্থ হলো, আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে কেবলামুখী হয়ে তারাবির দুই রাকাত নামাজ আদায় করার নিয়ত করলাম।
তারাবির নামাজের ফাঁকে বিভিন্ন দোয়া ও তাসবিহ পাঠ করা হয়। সুবহানা জিল মুলকি ওয়াল মালাকুত দোয়াটি বহুল প্রচলিত হলেও এটি বাধ্যতামূলক নয়। বান্দা ইচ্ছা করলে অন্য তাসবিহ, দরুদ বা কুরআনের আয়াত পাঠ করতে পারেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, তারাবির নামাজ অতিরিক্ত রাকাত নয়; বরং এটি আধ্যাত্মিক উন্নতির এক সুবর্ণ সুযোগ। ঈমান ও সওয়াবের আশায় রমজানের রাতে কিয়াম করলে পূর্বের গুনাহ মাফ হওয়ার সুসংবাদ রয়েছে।
সিএ/এমআর


