ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রত্যাশিত ফল না পাওয়ার পেছনে জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক হিসাব ও কৌশলগত ভুল বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মত বিশ্লেষকদের। নির্বাচনোত্তর বিশ্লেষণে উঠে এসেছে দলটির অতিরিক্ত প্রত্যাশা, সিদ্ধান্তহীনতা এবং মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা অনুধাবনে ঘাটতির বিষয়গুলো।
বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিপুল সংখ্যক তরুণ ভোটারকে ঘিরে অতিরিক্ত আশা জামায়াতের বড় ভুল ছিল। নতুন ভোটাররা পরিবার ও সামাজিক বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন নয়, তাদের রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিও পরিবারকেন্দ্রিক। এই বাস্তবতা বিবেচনায় না নেওয়ায় দলটি ভুল সিদ্ধান্তে পৌঁছায়।
এছাড়া অতীত নির্বাচনের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ না করে হঠাৎ করে আসনসংখ্যায় বড় ধরনের উল্লম্ফনের প্রত্যাশাও অবাস্তব ছিল। ইতিহাস বলছে, জামায়াত কখনোই দেশের প্রধান দুই দলের সঙ্গে সরাসরি প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বড় সাফল্য পায়নি। তবুও আওয়ামী লীগ নির্বাচনের বাইরে থাকায় আসনসংখ্যা হঠাৎ কয়েক গুণ বেড়ে যাবে—এমন ধারণা বাস্তবতার সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল।
নির্বাচনী প্রচারণায় জনসমর্থন অতিরঞ্জিতভাবে মূল্যায়ন করাও আরেকটি ভুল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। প্রচারণায় মানুষের সৌজন্যমূলক আচরণকে নিশ্চিত ভোট হিসেবে ধরে নেওয়ায় প্রকৃত সমর্থন সম্পর্কে বিভ্রান্তি তৈরি হয়।
বিশ্লেষণে আরও বলা হয়, প্রতিপক্ষকে আক্রমণাত্মক ভাষায় ঘায়েল করার কৌশল উল্টো নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ব্যক্তিগত আক্রমণ ও বিদ্রূপ সাধারণ ভোটারের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়নি। একইসঙ্গে ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনে ধারাবাহিকতা না থাকায় ইসলামী ভোটব্যাংকের একটি অংশও বিমুখ হয়।
একাত্তরের ভূমিকা নিয়ে সুস্পষ্ট অবস্থান না নেওয়া, রাজনৈতিক সিদ্ধান্তে বারবার পরিবর্তন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমভিত্তিক অতিরঞ্জিত বিশ্লেষণে আস্থা রাখাও দলের জন্য ক্ষতিকর হয়েছে বলে মত দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে বিশ্লেষকের মতে, এসব কারণ না থাকলে হয়তো জামায়াত আরও কিছু আসন পেতে পারত। তবে বাস্তব ভোটের সমীকরণ বিবেচনায় একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন স্বাভাবিকভাবে সম্ভব ছিল না। তবুও এই নির্বাচনে অর্জিত ভোট ও আসনসংখ্যা দলটির জন্য একটি অগ্রগতি হিসেবে দেখা যেতে পারে।
সিএ/এমআর


