মানুষের জীবন সুখ ও দুঃখ, নিরাপত্তা ও অনিরাপত্তার মিশ্রণে গঠিত। কখন বিপদ আসবে তা কেউ আগাম জানাতে পারে না। একজন মুমিনের জন্য বিপদের সময় হতাশ না হয়ে ধৈর্য ধারণ করা এবং আল্লাহর কাছে সাহায্য প্রার্থনা করা ইমানের অংশ। ইসলাম বিপদে করণীয় এবং বিপদের আগেই আত্মরক্ষার আমলও শিক্ষা দেয়।
বিপদের প্রথম মুহূর্তে ধৈর্য ধারণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হজরত আনাস ইবনু মালিক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, প্রকৃত ধৈর্য হলো বিপদের প্রথম আঘাতের সময়। (মুসলিম ২০১১)
ধৈর্যশীলদের জন্য আল্লাহর পক্ষ থেকে রয়েছে বিশেষ সুসংবাদ। কুরআনে ইরশাদ হয়েছে, হে মুমিনগণ! তোমরা ধৈর্য ও নামাজের মাধ্যমে সাহায্য প্রার্থনা করো। নিশ্চয়ই আল্লাহ ধৈর্যশীলদের সঙ্গে রয়েছেন। (সুরা আল-বাকারা: আয়াত ১৫৩)
রাসুলুল্লাহ (সা.) উম্মতকে দুনিয়ার অনিষ্ট থেকে রক্ষার কার্যকর আমলও শিক্ষা দিয়েছেন। হজরত আবদুল্লাহ ইবনু খুবাইব (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, সকাল ও সন্ধ্যায় তিনবার করে ‘কুল হুয়াল্লাহু আহাদ’ এবং ‘আল-মু‘আওবিযাতাইন’ পাঠ করা সব ধরনের অনিষ্ট থেকে রক্ষা করবে। (আবু দাউদ ৫০৮২, তিরমিজি ৩৫৭৫)
অনিষ্ট থেকে বাঁচতে নিয়মিত করা যেসব আমল উল্লেখযোগ্য:
১. সকাল–সন্ধ্যার দোয়া: ‘আল্লাহর নামে যাঁর নামের বরকতে আসমান ও যমীনের কোনো বস্তুই ক্ষতি করতে পারে না।’ (আবু দাউদ ৫০৮৮, তিরমিজি ৩৩৮৮)
২. আয়াতুল কুরসি পাঠ: রাতে পড়লে আল্লাহ একজন প্রহরী নিযুক্ত করেন। (বুখারি ২৩১১)
৩. বেশি বেশি ইসতেগফার করা: ইসতেগফার বিপদ দূর করে ও রিজিকের দ্বার খুলে দেয়। (ইবনু মাজাহ ৩৮১৯)
নিয়মিত এসব আমল পালন করলে আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখে দুনিয়ার অনিষ্ট, বিপদ ও অকল্যাণ থেকে সুরক্ষা পাওয়া সম্ভব।
সিএ/এমআর


