আল্লাহর পথে ফিরে আসাই মানুষের সবচেয়ে বড় সাফল্য। দুনিয়ার সাফল্য সাময়িক হলেও আল্লাহর দিকে প্রত্যাবর্তন চিরস্থায়ী কল্যাণের পথ খুলে দেয়। ইসলামে তাওবাকে শুধু গুনাহ মাফের উপায় হিসেবে নয়, বরং আত্মার পরিশুদ্ধি ও নতুন জীবনের সূচনা হিসেবে দেখা হয়।
কুরআনে আল্লাহ তাআলা স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, যারা তাওবা করে নিজেদের সংশোধন করে এবং আল্লাহকে দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরে, তারা মুমিনদের সঙ্গে থাকবে এবং তাদের জন্য রয়েছে মহাপুরস্কার। তাওবার মাধ্যমে মানুষ আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের সুযোগ পায়।
কুরআনের বর্ণনায় এসেছে, আল্লাহ তাওবাকারীদের ভালোবাসেন এবং পবিত্রতা অবলম্বনকারীদের প্রতি বিশেষ অনুগ্রহ করেন। শুধু তাই নয়, আন্তরিক তাওবার মাধ্যমে পূর্বের গুনাহ নেকিতে রূপান্তরিত হওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে।
হাদিসে রাসুলুল্লাহ সা. বলেছেন, বান্দার তাওবায় আল্লাহ এমনভাবে আনন্দিত হন, যেমন কেউ মরুভূমিতে হারানো উট ফিরে পেয়ে আনন্দিত হয়। এ থেকে বোঝা যায়, আল্লাহর কাছে তাওবার গুরুত্ব কতটা গভীর।
ইসলামি শিক্ষায় বলা হয়েছে, আদম সন্তানের সবাই ভুল করে, তবে সর্বোত্তম তারা, যারা ভুলের পর আল্লাহর কাছে ফিরে আসে। সূর্য পশ্চিম দিক থেকে উদিত হওয়ার আগ পর্যন্ত তাওবার দরজা খোলা থাকবে বলেও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।
আলেমদের মতে, প্রকৃত তাওবা শুধু মুখে ক্ষমা চাওয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। গুনাহ ত্যাগ করা, অন্তরে অনুতাপ, ভবিষ্যতে সেই গুনাহ না করার দৃঢ় সংকল্প এবং অন্যের অধিকার নষ্ট হলে তা ফিরিয়ে দেওয়াই তাওবার মূল শর্ত।
ইসলাম মানুষকে নিরাশ হতে নিষেধ করেছে। আল্লাহ নিজেই ঘোষণা দিয়েছেন, তাঁর রহমত থেকে নিরাশ না হতে। তাই ভুল থেকে ফিরে এসে আল্লাহর পথে দৃঢ়ভাবে অগ্রসর হওয়াই প্রকৃত বিজয়।
সিএ/এমআর


