রমজান মাসে রোজা রাখা প্রত্যেক সুস্থ ও প্রাপ্তবয়স্ক মুসলমানের ওপর ফরজ। শরিয়তসম্মত কারণ ছাড়া ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা ভঙ্গ করা গুরুতর গুনাহ। তবে রোজা অবস্থায় অসুস্থ ব্যক্তির ওষুধ গ্রহণ, ইনজেকশন নেওয়া বা বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার প্রয়োজন হতে পারে। এ বিষয়ে অনেকের মধ্যেই সংশয় দেখা দেয়।
সমসাময়িক ফকিহ ও ইসলামী চিন্তাবিদরা কুরআন-সুন্নাহ ও ফিকহের আলোকে বিষয়টি ব্যাখ্যা করেছেন। তাদের মতে, রোজা অবস্থায় চিকিৎসার প্রয়োজনে ইনজেকশন নেওয়া হলে—যদি তা শারীরিক শক্তি বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে না হয়—তবে রোজা নষ্ট হয় না। চাই তা মাংসে দেওয়া হোক বা শিরায় দেওয়া হোক।
কারণ, ইনজেকশনের মাধ্যমে ওষুধ শরীরে প্রবেশ করে স্বাভাবিক খাদ্যগ্রহণের পথ দিয়ে নয়। ফিকহের মূলনীতি অনুযায়ী, রোজা ভঙ্গ হওয়ার জন্য খাদ্য বা পানীয় জাতীয় কিছু মুখ বা নাকের মতো স্বাভাবিক পথে পাকস্থলীতে পৌঁছানো আবশ্যক। ইনজেকশনের ক্ষেত্রে তা ঘটে না।
ডায়াবেটিস রোগীদের জন্য ইনসুলিন গ্রহণ একটি অপরিহার্য চিকিৎসা। শরিয়তের দৃষ্টিতে ইনসুলিন নিলেও রোজা ভঙ্গ হয় না। কারণ, ইনসুলিন খাদ্য বা পানীয় নয় এবং এটি স্বাভাবিক প্রবেশপথ দিয়ে পাকস্থলীতে পৌঁছায় না।
এ ছাড়া ডায়াবেটিস পরীক্ষা করার জন্য আঙুলে সূচ ফুটিয়ে সামান্য রক্ত নেওয়াও রোজা ভঙ্গের কারণ নয়। এতে শরীরে কোনো খাদ্য বা পানীয় প্রবেশ করে না এবং অল্প পরিমাণ রক্ত বের হওয়াকে রোজা নষ্ট হওয়ার কারণ হিসেবে গণ্য করা হয় না।
ইসলাম একটি সহজ ও বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা। অসুস্থ ব্যক্তির প্রয়োজনীয় চিকিৎসা গ্রহণে শরিয়ত বাধা দেয় না। তাই চিকিৎসার প্রয়োজনে ইনজেকশন, ইনসুলিন গ্রহণ বা সুগার পরীক্ষা নিয়ে অযথা দুশ্চিন্তার প্রয়োজন নেই। তবে বিশেষ পরিস্থিতিতে বিশ্বস্ত আলেম ও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই উত্তম।
সিএ/এমআর


