ব্যস্ত জীবন, অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ আর প্রতিদিনের চাপ মানুষের মনে তৈরি করছে অস্থিরতা ও হতাশা। কাজের মাঝেও অনেক সময় মন পড়ে থাকে অন্যখানে, ফলে বাড়ে মানসিক ক্লান্তি। এই অস্থির মনকে শান্ত করার উপায় কী—এই প্রশ্নের উত্তর ইসলামে বহু আগেই স্পষ্টভাবে দেওয়া হয়েছে। সেই উত্তর হলো জিকির।
ইমাম শাফেয়ি (রহ.) বলেছেন, তুমি যদি তোমার নফসকে হক বা নেক কাজে ব্যস্ত না রাখো, তবে সে তোমাকে বাতিল ও গুনাহের কাজে ব্যস্ত করে দেবে। এই বাস্তবতায় শয়তানের প্ররোচনা থেকে বাঁচার সবচেয়ে সহজ ও শক্তিশালী মাধ্যম হলো আল্লাহর জিকির। পবিত্র কোরআনে আল্লাহ তাআলা বারবার তাঁর স্মরণের নির্দেশ দিয়েছেন।
জিকির শুধু মুখে কিছু শব্দ উচ্চারণ নয়; এটি আত্মাকে পরিশুদ্ধ করার এক গভীর ইবাদত। আল্লাহ বলেন, জেনে রেখো, আল্লাহর জিকির দ্বারাই অন্তরসমূহ শান্তি লাভ করে। মানসিক অশান্তির এই সময়ে জিকির মানুষের মনে প্রশান্তি আনে এবং হতাশা দূর করতে সাহায্য করে।
জিকিরের মাধ্যমে বান্দা আল্লাহর নৈকট্য লাভ করে। কোরআনে আল্লাহ বলেছেন, তোমরা আমাকে স্মরণ করো, আমি তোমাদের স্মরণ করব। একই সঙ্গে জিকির শয়তানের বিরুদ্ধে এক শক্তিশালী ঢাল হিসেবে কাজ করে। ইবনে আব্বাস (রা.)-এর মতে, মানুষ যখন আল্লাহকে স্মরণ করে, তখন শয়তান আত্মগোপন করে।
রাসুলুল্লাহ (সা.) জিকিরকে এমন এক ইবাদত হিসেবে বর্ণনা করেছেন, যা স্বর্ণ-রুপা দান বা জিহাদের চেয়েও উত্তম। হাদিসে এসেছে, সুবহানাল্লাহিল ওয়া বিহামদিহি সুবহানাল্লাহিল আযীম—এই দুটি বাক্য আল্লাহর কাছে অত্যন্ত প্রিয় এবং কিয়ামতের দিন মিজানের পাল্লায় ভারী হবে।
ব্যস্ত জীবনে আলাদা সময় বের করা কঠিন হলেও চলার পথে, কাজের ফাঁকে, ট্রাফিক জ্যামে বা ঘুমানোর আগে জিকির করা সম্ভব। এই সহজ আমল মানুষের মনকে শান্ত রাখে এবং আখিরাতের জন্য মূল্যবান পাথেয় সঞ্চয় করে।
সিএ/এমআর


