খাদ্য মানুষের জীবন, স্বাস্থ্য ও নৈতিকতার সঙ্গে গভীরভাবে সম্পর্কিত। মানুষ যে খাদ্য গ্রহণ করে, তা তার শরীর ও চরিত্রে প্রভাব ফেলে। অথচ আধুনিক সমাজে খাদ্যে ভেজাল একটি ভয়াবহ সামাজিক সমস্যায় পরিণত হয়েছে। অধিক মুনাফার লোভে মানুষের জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলা হচ্ছে।
ইসলাম খাদ্য ও পণ্যের বিশুদ্ধতা রক্ষায় কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। এক হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রাসুলুল্লাহ (সা.) খাদ্যশস্যের স্তূপ পরীক্ষা করে ভেজাল শনাক্ত করেন এবং ধোঁকাবাজির বিরুদ্ধে কঠোর সতর্কবাণী উচ্চারণ করেন। তিনি ঘোষণা করেন, যে ব্যক্তি প্রতারণা করে, তার সঙ্গে তাঁর কোনো সম্পর্ক নেই।
ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, এই হাদিস বাজার তদারকি ও ভেজাল প্রতিরোধে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক দায়িত্বের গুরুত্ব তুলে ধরে। কোরআনেও মাপে কম দেওয়া ও প্রতারণার বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে এবং ন্যায় ও ইনসাফের সঙ্গে লেনদেনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
ইসলামী স্কলাররা স্পষ্ট করেছেন, খাদ্যে ভেজাল শুধু ব্যক্তিগত গুনাহ নয়, এটি একটি সামাজিক অপরাধ। এমন কাজ মানুষের দোয়া কবুল হওয়ায় বাধা সৃষ্টি করে এবং সমাজে অবিশ্বাস ও ক্ষতি ডেকে আনে। তাই খাদ্যে সততা বজায় রাখা শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং ধর্মীয় বাধ্যবাধকতাও।
ইসলামের দৃষ্টিতে খাদ্যে ভেজাল ও প্রতারণা মানুষের অধিকার হরণ এবং সমাজের ওপর জুলুম। এ ধরনের অপরাধ থেকে বিরত থাকা এবং ন্যায়ভিত্তিক ব্যবসা নিশ্চিত করাই ইসলামের মূল শিক্ষা।
সিএ/এমআর


