ইসলাম দুর্বল, অসহায় ও নির্যাতিত মানুষের অধিকার রক্ষায় অত্যন্ত কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে। ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং মানুষের অধিকার সংরক্ষণ ইসলামের অন্যতম মৌলিক উদ্দেশ্য। এ কারণে অন্যায় ও বিশ্বাসঘাতকতাকে ইসলামে গুরুতর অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয়েছে।
হাদিসে কুদসিতে আল্লাহ তাআলা ঘোষণা করেছেন, কিয়ামতের দিন তিন শ্রেণির মানুষের বিরুদ্ধে তিনি নিজেই প্রতিপক্ষ হবেন। প্রথমত, যে ব্যক্তি আল্লাহর নামে কোনো চুক্তি বা অঙ্গীকার করে তা ভঙ্গ করে। দ্বিতীয়ত, যে ব্যক্তি কোনো স্বাধীন মানুষকে বিক্রি করে তার মূল্য ভোগ করে। তৃতীয়ত, যে ব্যক্তি কোনো শ্রমিকের কাছ থেকে পূর্ণ কাজ আদায় করে, কিন্তু তার ন্যায্য পারিশ্রমিক প্রদান করে না।
আল্লাহ তাআলা বলেন, যারা তাঁর সঙ্গে দৃঢ় অঙ্গীকার করার পর তা ভঙ্গ করে এবং পৃথিবীতে ফ্যাসাদ সৃষ্টি করে, তারাই প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত। বিশ্বাসঘাতকতা কখনোই একজন মুমিনের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। কিয়ামতের দিন বিশ্বাসঘাতক ব্যক্তির জন্য একটি পতাকা উত্তোলন করা হবে এবং তার বিশ্বাসঘাতকতার পরিচয় প্রকাশ করা হবে।
ইসলামে মানুষের স্বাধীনতা লঙ্ঘনকে মহাপাপ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। একইভাবে শ্রমিকের ন্যায্য মজুরি প্রদান না করাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। রাসুল (সা.) শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার পারিশ্রমিক দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। মজুরি প্রদানে ইচ্ছাকৃত বিলম্বও এক ধরনের জুলুম হিসেবে বিবেচিত।
অন্যায় ও জুলুম ব্যক্তি, সমাজ এবং রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। তাই ইসলামে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ, বিশ্বাসঘাতকতা, মানুষের স্বাধীনতা হরণ এবং শ্রমিকের অধিকার অস্বীকারকে ভয়াবহ অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব অপরাধের জন্য কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাআলার সামনে জবাবদিহি করতে হবে।
সিএ/এমআর


