রাজনীতি যখন অসহিষ্ণুতা, প্রতিহিংসা এবং বিভাজনের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন সমাজ তার নৈতিক ভারসাম্য হারায়। ইসলামের রাজনৈতিক দর্শন রাজনীতিকে শত্রুতা নয়, দায়িত্ব হিসেবে দেখে এবং ন্যায় ও সহনশীলতার কাঠামোর মধ্যে পরিচালনা করতে চায়।
কোরআন স্বীকার করে মানুষের মধ্যে পার্থক্য ও মতভেদ স্বাভাবিক। আল্লাহ তায়ালা বলেন, আর যদি তোমার প্রতিপালক চাইতেন, তবে তিনি মানুষকে এক জাতিই করতেন; কিন্তু তারা মতভেদ করতেই থাকবে। (সূরা হুদ, আয়াত: ১১৮)
ইসলামের নীতি অনুযায়ী, বিরোধীদের ক্ষেত্রেও ন্যায়বিচার বজায় রাখতে হবে। কোরআন নির্দেশ দেয়, হে মুমিনগণ! আল্লাহর জন্য ইনসাফের সঙ্গে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াও এবং ন্যায়সঙ্গত সাক্ষ্য দাও। কোনো সম্প্রদায়ের প্রতি বিদ্বেষ যেন ইনসাফ থেকে বিরত না করে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মদীনা রাষ্ট্রে মুসলিম ও অমুসলিম সম্প্রদায়ের অধিকার স্বীকৃত করেছিলেন। হাদিসে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি কোনো চুক্তিবদ্ধ অমুসলিমের প্রতি জুলুম করবে, কিয়ামতের দিন আমি তার বিরুদ্ধে মামলা করব।
পবিত্র কোরআন ও হাদিসে রাজনৈতিক মতপ্রকাশ ও পরামর্শকে উৎসাহিত করা হয়েছে। সহনশীল আচরণ অর্থ অন্যায়ের সঙ্গে আপস নয়, বরং ন্যায় থেকে বিচ্যুত না হওয়া। বর্তমান রাজনৈতিক উত্তাপে ইসলামের নীতি নির্দেশ দেয় কীভাবে শক্ত অবস্থান নিয়েও সহনশীল থাকা যায় এবং বিরোধিতা করলেও ন্যায়বিচার বজায় রাখা যায়।
সিএ/এমআর


