রমজান শুধু একটি মাস নয়, বরং রহমত, ক্ষমা ও নাজাতের বিশেষ মৌসুম। গাফিলতি ও ব্যস্ততায় আচ্ছন্ন মানুষের জন্য এই মাস আসে আত্মশুদ্ধি ও আল্লাহর দিকে ফিরে যাওয়ার সুযোগ নিয়ে। মুমিনের কাছে রমজানের আগমন মানেই অন্তর পরিশুদ্ধ করার এবং আমল গুছিয়ে নেওয়ার সময়।
হাদিসে রমজানের মাহাত্ম্য সম্পর্কে এসেছে এক গুরুত্বপূর্ণ সুসংবাদ। আবু হুরাইরাহ্ (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, রমজান এলে আসমানের দরজা খুলে দেওয়া হয়, জাহান্নামের দরজা বন্ধ করা হয় এবং শয়তানকে শিকলবন্দী করা হয়।
এর অর্থ হলো, এই মাসে আল্লাহর রহমত ও দয়ার পথ উন্মুক্ত থাকে। ইবাদত সহজ হয়, দোয়া কবুলের সম্ভাবনা বাড়ে এবং নেক আমলের সওয়াব বহুগুণে বৃদ্ধি পায়। তবু কেউ গুনাহে লিপ্ত হলে বুঝতে হবে, তার নফস ও অভ্যাসই তাকে টেনে নিচ্ছে।
রমজানের জন্য প্রস্তুতির ক্ষেত্রে আন্তরিক তওবা, ইবাদতের পরিকল্পনা, গুনাহ থেকে দূরে থাকার মানসিকতা এবং দান-সদকার অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। রোজা শুধু ক্ষুধা ও তৃষ্ণা সহ্য করার নাম নয়; বরং চোখ, কান, জিহ্বা ও অন্তর সংযত রাখার সাধনা।
অতএব, যখন আসমানের দরজা খুলে যায়, তখন আমাদেরও হৃদয়ের দরজা খুলে দিতে হবে। প্রস্তুতি নিয়ে রমজানকে গ্রহণ করলে এই মাস সত্যিই হয়ে ওঠে জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেওয়ার বরকতময় সময়।
সিএ/এমআর


