পবিত্র কোরআনে নবী মুহাম্মাদের (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) যেসব গুণাবলি তুলে ধরা হয়েছে, তার মধ্যে সবচেয়ে ব্যাপক ও সর্বজনীন গুণ হলো—তিনি সমগ্র জগতের জন্য রহমত। আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা করেছেন, ‘আর আমি আপনাকে জগতসমূহের জন্য রহমতস্বরূপ প্রেরণ করেছি।’ (সুরা আম্বিয়া: ১০৭)। এই ঘোষণা কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা সময়ের জন্য সীমাবদ্ধ নয়; বরং কেয়ামত পর্যন্ত সমগ্র মানবজাতির জন্য প্রযোজ্য। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) প্রকাশিত এক ধর্মীয় বিশ্লেষণে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তুলে ধরা হয়েছে।
নবীজির (সা.) এই রহমত কেবল আধ্যাত্মিক পরিসরে সীমাবদ্ধ নয়। মানুষের চিন্তা, সমাজব্যবস্থা, রাজনীতি, শিক্ষা, জ্ঞানচর্চা ও দৈনন্দিন জীবন পরিচালনার প্রতিটি স্তরে এর প্রভাব বিস্তৃত। তাওহিদ বা আল্লাহর একত্ববাদের শিক্ষা এই রহমতের প্রথম ও মৌলিক দিক। তাওহিদ মানুষের চিন্তা থেকে শিরক ও কুসংস্কার দূর করে তাকে দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক জীবনের পথে পরিচালিত করে।
শিরক মানুষের মর্যাদাকে ক্ষুণ্ন করে এবং মানসিক দাসত্ব সৃষ্টি করে। বিপরীতে তাওহিদ মানুষকে শেখায় আল্লাহ ছাড়া কারো সামনে মাথা নত না করতে। এই বিশ্বাসই মানুষের প্রকৃত সম্মান ও আভিজাত্যের ভিত্তি। কোরআনে আদম (আ.)-কে ফেরেশতাদের সিজদা করার নির্দেশ মানুষের এই মর্যাদার প্রতীক হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।
নবী মুহাম্মাদ (সা.) মানুষের মধ্যে সাম্য ও ঐক্যের ধারণা প্রতিষ্ঠা করেন। তাঁর আগমনের আগে সমাজে বংশ, জাতি ও বর্ণভিত্তিক বৈষম্য ছিল প্রকট। তিনি ঘোষণা করেন, কোনো আরবের ওপর অনারবের কিংবা কোনো শ্বেতাঙ্গের ওপর কৃষ্ণাঙ্গের শ্রেষ্ঠত্ব নেই; শ্রেষ্ঠত্বের একমাত্র মানদণ্ড হলো তাকওয়া ও নেক আমল। এই শিক্ষা সমাজে বৈপ্লবিক পরিবর্তন এনে নিপীড়িত মানুষের মুক্তির পথ খুলে দেয়।
রহমতের আরেকটি বড় দিক হলো জ্ঞান ও শিক্ষার প্রতি উৎসাহ। নিজে উম্মী হওয়া সত্ত্বেও নবীজি (সা.) জ্ঞানার্জনকে ফরজের মর্যাদা দিয়েছেন এবং উপকারী জ্ঞান আহরণের জন্য উৎসাহিত করেছেন। এর ফলে সমাজে কুসংস্কার ভেঙে পড়ে এবং যুক্তি ও গবেষণাভিত্তিক চিন্তার বিকাশ ঘটে।
এ ছাড়া দ্বীন ও দুনিয়ার কৃত্রিম বিভাজন দূর করে তিনি একটি ভারসাম্যপূর্ণ জীবনব্যবস্থা উপস্থাপন করেন। হালাল উপায়ে জীবিকা অর্জন, বিবাহ ও পরিচ্ছন্নতাকে ইবাদতের অংশ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। সব মিলিয়ে নবী মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) মানব ইতিহাসে এক অনন্য রহমত, যার প্রভাব কেয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে।
সিএ/এমআর


