ঈমান ও তাওয়াক্কুল পরস্পরের সঙ্গে গভীরভাবে সম্পৃক্ত। আল্লাহর ওপর পূর্ণ আস্থা ও নির্ভরশীলতাই একজন প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য বলে ইসলামি চিন্তাবিদরা মনে করেন। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যে ব্যক্তি আল্লাহর ওপর নির্ভর করে, আল্লাহ তার জন্য যথেষ্ট।’ এই আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তায়ালা তাওয়াক্কুলের গুরুত্ব স্পষ্ট করেছেন।
ইসলামি ব্যাখ্যায় বলা হয়, শুধু মৌখিক বিশ্বাস নয়, বরং জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে আল্লাহর ওপর ভরসা করাই প্রকৃত ঈমান। তাওয়াক্কুল ছাড়া ঈমান পূর্ণতা পায় না। দুনিয়ার ক্ষণস্থায়ী প্রাপ্তির চেয়ে আল্লাহর কাছে যা আছে, তা যে উত্তম ও চিরস্থায়ী—এ বিশ্বাস থেকেই তাওয়াক্কুলের জন্ম।
ইতিহাসে তাওয়াক্কুলের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে হযরত হাজেরা আ.-এর ঘটনাকে তুলে ধরা হয়। জনমানবহীন মরুভূমিতে সন্তানসহ অবস্থান করেও তিনি আল্লাহর ওপর পূর্ণ ভরসা রেখেছিলেন। তাঁর সেই নির্ভরশীলতা ও ধৈর্যের প্রতিদান হিসেবে আল্লাহ জমজম কূপ দান করেন। এই ঘটনাই হজের গুরুত্বপূর্ণ অংশ সাফা-মারওয়ার সাঈ হিসেবে মুসলমানদের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।
ইসলামি বিশ্লেষণে বলা হয়, তাওয়াক্কুল মানে কর্মবিমুখতা নয়। বরং নিজের সাধ্য অনুযায়ী চেষ্টা করে ফল আল্লাহর ওপর ছেড়ে দেওয়াই তাওয়াক্কুলের প্রকৃত শিক্ষা। আল্লাহ বান্দার অন্তরের নিয়ত ও প্রচেষ্টা সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবগত।
সিএ/এমআর


