মানুষের জীবন ধন-সম্পদের ওপর নির্ভরশীল। তবে ইসলামে সম্পদের মূল মূল্য তার উৎস দ্বারা নির্ধারিত হয়। বাহ্যিকভাবে ঝলমলে সম্পদ হলেও যদি তা হারামভাবে অর্জিত হয়, তা মানুষকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে পারে। অপরদিকে অল্প হলেও হালাল আয় শান্তি ও বরকত বয়ে আনে।
হজরত খাওলাহ বিনতে কায়স (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে—
‘নিশ্চয়ই এই দুনিয়ার ধন-সম্পদ শ্যামল ও সুমিষ্ট। যে ব্যক্তি তা হালাল ও ন্যায়সঙ্গতভাবে গ্রহণ করে, তার জন্য তাতে বরকত হয়। আর যে ব্যক্তি আল্লাহ ও তার রাসুলের সম্পদ থেকে অন্যায়ভাবে ভোগ করে, কিয়ামতের দিন তার জন্য জাহান্নামের আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই।’ (তিরমিজি ২৩৭৪, মিশকাতুল মাসাবিহ ৪০১৭)
কুরআনের দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পদের নীতি:
আল্লাহ তাআলা বলেন—
‘হে মুমিনগণ! তোমরা একে অন্যের সম্পদ অন্যায়ভাবে ভোগ করো না।’ (সুরা আন-নিসা: আয়াত ২৯)
হারাম ও হালালের প্রভাব:
হারাম উপার্জন দিয়ে দান-সদকা বা নেক কাজ করা হলেও আল্লাহ তা কবুল করেন না। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন—
‘নিশ্চয়ই আল্লাহ পবিত্র, তিনি কেবল পবিত্র (হালাল) জিনিসই গ্রহণ করেন।’ (মুসলিম ১০১৫, তিরমিজি ২৯৮৯, মুসনাদ আহমাদ ৮৮৪৬)
বর্তমান সময়ে করণীয়:
আজকের সমাজে ঘুষ, দুর্নীতি ও অবৈধ আয়ের প্রবণতা বাড়ছে। একজন মুসলিমের করণীয় হলো—
- উপার্জনের উৎস হালাল কি না নিশ্চিত করা
- অফিস, ব্যবসা ও রাষ্ট্রীয় সম্পদে খেয়ানত না করা
- সন্দেহজনক আয়ের পথ পরিহার করা
- অন্যায়ভাবে নেওয়া সম্পদ ফিরিয়ে দেওয়া ও তাওবা করা
- অল্প আয় হলেও তাতে সন্তুষ্ট থাকা
হজরত আবদুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রা.) বলেছেন—
‘হারাম কখনো বেশি হয় না; এর পরিণতি শেষ পর্যন্ত কমেই যায়।’ (মুসান্নাফ ইবন আবি শাইবা ৩৫৫৬৬, বায়হাকি)
উপসংহার:
দুনিয়ার সম্পদ যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, এর প্রকৃত মূল্য নির্ভর করে কিভাবে তা অর্জিত হয়েছে। হালাল আয় জীবনকে আলোকিত করে, শান্তি আনে এবং আখিরাতে মুক্তির পথ খুলে দেয়। বিপরীতে হারাম আয় বাহ্যিক সুখ দিলেও অন্তরে অশান্তি ও পরিণামে জাহান্নামের আগুন ছাড়া কিছুই দেয় না। তাই আমাদের উচিত সম্পদের মোহ নয়—বরং আল্লাহর সন্তুষ্টির পথে চলা।
সিএ/এমআর


