সুল (সা.)-এর ইন্তেকালের খবরে সাহাবিদের মধ্যে গভীর শোক ও বিভ্রান্তি তৈরি হয়। অনেকেই এই বাস্তবতা মেনে নিতে পারেননি। এমন পরিস্থিতিতে আবু বকর (রা.) দৃঢ়তা ও প্রজ্ঞার পরিচয় দেন। তিনি উপস্থিত জনতাকে স্মরণ করিয়ে দেন যে, মুহাম্মদ (সা.) ছিলেন আল্লাহর রাসুল এবং তিনি ইন্তেকাল করেছেন, তবে আল্লাহ চিরঞ্জীব ও অমর। এরপর তিনি সুরা আল ইমরানের আয়াত পাঠ করেন, যা সাহাবিদের মানসিক স্থিতি ফিরিয়ে আনতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
এই বক্তব্যের মাধ্যমে সমাজে সৃষ্টি হওয়া বিশৃঙ্খলা অনেকটাই প্রশমিত হয়। এরপর নেতৃত্বের প্রশ্নে মুহাজির ও আনসারদের মধ্যে মতভেদ দেখা দিলেও আবু বকর (রা.)-এর হস্তক্ষেপে বিষয়টি শান্তিপূর্ণভাবে সমাধান হয় এবং সর্বসম্মতিক্রমে তাকে খলিফা হিসেবে নির্বাচিত করা হয়।
খলিফা নিযুক্ত হওয়ার পর দেওয়া প্রথম ভাষণে তিনি দায়িত্ব গ্রহণে নিজের অনীহার কথা জানান এবং জনগণকে সৎ পথে চলতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, সঠিক পথে থাকলে তাকে সমর্থন করতে এবং ভুল করলে সংশোধন করে দিতে। তার এই নীতিনির্ধারণী বক্তব্য পরবর্তী সময়ের রাষ্ট্রনায়কদের জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে আছে।
রাসুল (সা.)-এর জীবদ্দশায় উসামা (রা.)-এর নেতৃত্বে যে বাহিনী সিরিয়ার উদ্দেশ্যে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, ইন্তেকালের পর অনেকেই তা স্থগিত রাখার পরামর্শ দেন। কিন্তু আবু বকর (রা.) এই সিদ্ধান্ত বহাল রাখেন। এতে মুসলিম সমাজে শৃঙ্খলা ও নেতৃত্বের দৃঢ়তা প্রতিষ্ঠিত হয়।
একই সময়ে কিছু গোত্র যাকাত দিতে অস্বীকৃতি জানায় এবং কেউ কেউ নিজেকে নবী দাবি করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে। আবু বকর (রা.) এসব চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেন এবং প্রয়োজনীয় অভিযান পরিচালনা করেন। তার দৃঢ়তা ও সাহসিকতার ফলে সমাজে আবার শৃঙ্খলা ফিরে আসে এবং ইসলামী রাষ্ট্রের ভিত্তি সুদৃঢ় হয়।
সিএ/এমআর


