হয়েছে। এই অন্ধকার জগতের অন্যতম বড় প্ল্যাটফর্ম হলো ডার্ক ওয়েব। এখানে পরিচয় গোপন রেখে নানা ধরনের বেআইনি কার্যক্রম পরিচালিত হয়। হ্যাকিং, মাদক ও অস্ত্র বিক্রি, কপিরাইট লঙ্ঘন, চোরাচালান, মানবপাচার ও পর্নোগ্রাফির মতো অপরাধ এই প্ল্যাটফর্মে সংঘটিত হয়ে থাকে।
ডার্ক ওয়েবে অনেক সময় পাইরেটেড সফটওয়্যার, বই, সিনেমা ও গান পাওয়া যায়। এসব পণ্য কপিরাইট লঙ্ঘনের মাধ্যমে বাজারজাত করা হয়, যা নির্মাতার অধিকার নষ্ট করে। ইসলামের দৃষ্টিতে অন্যের হক নষ্ট করা গুরুতর অপরাধ।
ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী হারাম পণ্যের কেনাবেচা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। কোরআনে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! মদ, জুয়া আর মূর্তি ও ভাগ্য নির্ধারক তীর ঘৃণিত শয়তানি কাজ, তোমরা তা বর্জন করো, যাতে তোমরা সাফল্যমণ্ডিত হতে পারো।’ (সুরা : মায়িদা, আয়াত : ৯০) ডার্ক ওয়েব মূলত নিষিদ্ধ পণ্যের ভার্চুয়াল বাজার হওয়ায় এখান থেকে লেনদেন করা শরিয়তসম্মত নয়।
অশ্লীলতা প্রচারেও ডার্ক ওয়েব বড় ভূমিকা রাখে। কোরআনে বলা হয়েছে, ‘যারা মুমিনদের মধ্যে অশ্লীলতার প্রসার কামনা করে, তাদের জন্য আছে দুনিয়া ও আখিরাতে যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি।’ (সুরা : নুর, আয়াত : ১৯) এছাড়া প্রতারণা, চোরাই পণ্য কেনাবেচা ও অবৈধ চোরাচালান ইসলামে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ। হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি আমাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করবে, সে আমাদের দলভুক্ত নয় আর যে ব্যক্তি আমাদের ধোঁকা দেবে, সেও আমাদের দলভুক্ত নয়।’ (মুসলিম, হাদিস : ১৮৪)
চোরাই পণ্য ক্রয়ের বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি জেনেশুনে চুরি করা বস্তু ক্রয় করল, সেও চুরির অপরাধে অংশীদার হয়ে গেল।’ (মুসতাদারকে হাকেম, হাদিস : ২২৮৭) পাশাপাশি কোরআনে আরও বলা হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ, তোমরা পরস্পরের মধ্যে তোমাদের ধন-সম্পদ অন্যায়ভাবে খেয়ো না, তবে পারস্পরিক সম্মতিতে ব্যবসার মাধ্যমে হলে ভিন্ন কথা।’ (সুরা : নিসা, আয়াত : ২৯) এসব নির্দেশনার আলোকে ডার্ক ওয়েব মার্কেটপ্লেস থেকে কেনাকাটা ইসলামের দৃষ্টিতে বৈধ নয়।
সিএ/এমআর


