দুনিয়াবি জীবনের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে পরকালে সফল হতে মহান রবের হুকুম মেনে চলার পাশাপাশি রাসুল (সা.)-এর আদর্শ ও তাঁর দেখানো পথ অনুসরণ করা জরুরি। পবিত্র কুরআনে মহান আল্লাহ তায়ালা ঘোষণা দিয়েছেন, ‘হে নবী, আপনি তাদের বলে দিন—যদি তোমরা আল্লাহকে ভালোবাসো, তাহলে আমার অনুসরণ করো, আল্লাহ তোমাদের ভালোবাসবেন এবং তোমাদের পাপসমূহ ক্ষমা করে দেবেন। আর আল্লাহ অত্যন্ত ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু’ (সুরা আল-ইমরান, আয়াত: ৩১)।
তবে ক্ষণস্থায়ী এই দুনিয়ায় শয়তান সব সময় মুমিনকে পথভ্রষ্ট করার চেষ্টা করে। বিভিন্ন হাদিসে শয়তানের অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রাসুল (সা.) বলেছেন, মানুষের কাছে শয়তান এসে নানা প্রশ্ন উসকে দেয়—কে সৃষ্টি করেছে, কেন সৃষ্টি করেছে—এভাবে একসময় প্রশ্ন তুলতে পারে, তোমার প্রতিপালককে কে সৃষ্টি করেছে? যখন এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়, তখন আল্লাহর কাছে পানাহ চাইতে এবং এসব চিন্তা থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৩০৪৬)।
পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় ও উত্তম আমলের পাশাপাশি মুমিনের উচিত নিয়মিত শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চাওয়া। হাদিসের আলোকে এমন তিনটি আমল রয়েছে, যার মাধ্যমে শয়তান মানুষের কাছাকাছি আসতে পারে না।
প্রথম আমল: ঘুমানোর আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ
আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত এক হাদিসে এসেছে, রমজানে যাকাতের মাল পাহারা দেওয়ার সময় এক ব্যক্তি খাদ্য নিতে এলে তাকে আটক করা হয়। পরে সে পরামর্শ দেয়, ঘুমাতে যাওয়ার আগে আয়াতুল কুরসি পাঠ করলে আল্লাহর পক্ষ থেকে একজন পাহারাদার নিযুক্ত করা হয় এবং ভোর পর্যন্ত শয়তান কাছে আসতে পারে না। রাসুল (সা.) এ কথা শুনে বলেন, সে সত্য কথা বলেছে, যদিও সে মিথ্যাবাদী শয়তান (সহিহ বুখারি, হাদিস: ৪৬৪৬)।
দ্বিতীয় আমল: সুরা বাকারার শেষ দুই আয়াত তিলাওয়াত
নু’মান ইবনু বাশীর (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে এসেছে, আসমান ও জমিন সৃষ্টির দুই হাজার বছর আগে আল্লাহ তায়ালা একটি কিতাব লিখেছেন। সেখান থেকে দুটি আয়াত নাজিল করা হয়েছে, যা দিয়ে সুরা বাকারার শেষ অংশ সম্পন্ন হয়েছে। কোনো ঘরে যদি এই আয়াত তিন রাত পাঠ করা হয়, তবে সেখানে শয়তান প্রবেশ করতে পারে না (মেশকাত, হাদিস: ২১৪৫; তিরমিজি, হাদিস: ২৮৮২)।
তৃতীয় আমল: শয়তানের অনিষ্ট থেকে আশ্রয় চেয়ে দোয়া করা
খাওলা বিনতে হাকীম (রা.) থেকে বর্ণিত হাদিসে রাসুল (সা.) বলেছেন, কেউ যদি কোনো স্থানে অবতরণের পর এই দোয়া পাঠ করে, তবে পুনরায় যাত্রা করা পর্যন্ত কোনো কিছুই তার ক্ষতি করতে পারবে না—
أَعُوذُ بِكَلِمَاتِ اللَّهِ التَّامَّاتِ مِنْ شَرِّ مَا خَلَقَ
অর্থ: আল্লাহর পরিপূর্ণ কালিমাসমূহের ওয়াসিলায় তিনি যা সৃষ্টি করেছেন তার অনিষ্ট থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাই। (তিরমিজি, হাদিস: ৩৪৩৭)
নিয়মিত এসব আমল পালন করলে শয়তানের কুমন্ত্রণা ও অনিষ্ট থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব বলে আলেমরা মনে করেন।
সিএ/এমআর


