নবুয়ত প্রাপ্তির কয়েক বছর আগে পবিত্র কাবা পুনর্নির্মাণের সময় হাজরে আসওয়াদ স্থাপনকে কেন্দ্র করে মক্কায় চরম উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছিল। প্রতিটি গোত্রই এই সম্মানের অংশীদার হতে চাইলে বিরোধ এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে যুদ্ধের আশঙ্কাও দেখা দেয়। বনু আবদুদ দার ও বনু আদি গোত্র পর্যন্ত রক্তে হাত ডুবিয়ে শপথ নেয়।
টানা কয়েক দিন অচলাবস্থার পর কুরাইশদের প্রবীণ ব্যক্তি আবু উমাইয়া ইবনে মুগিরা প্রস্তাব দেন, হারাম শরিফের দরজা দিয়ে যিনি প্রথম প্রবেশ করবেন, তাঁর সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নেবে। পরদিন প্রথম প্রবেশকারী ছিলেন মুহাম্মদ (সা.)। তাঁকে দেখেই উপস্থিত নেতারা সমস্বরে বলে ওঠেন, ‘এই তো আল-আমিন, আমরা রাজি।’
মুহাম্মদ (সা.) নিজের চাদর বিছিয়ে তার ওপর হাজরে আসওয়াদ রাখেন এবং প্রতিটি গোত্রপ্রধানকে চাদরের এক একটি কোণা ধরতে বলেন। এভাবে সবার অংশগ্রহণে পাথরটি যথাস্থানে স্থাপন হয় এবং সংঘাত এড়ানো সম্ভব হয়। এই ঘটনা তাঁর বিচক্ষণতা, ন্যায়বিচার ও সবার আস্থার প্রতীক হিসেবে ইতিহাসে স্মরণীয় হয়ে আছে।
পরবর্তী সময়ে নবুয়তের ঘোষণা এলে কুরাইশদের একটি অংশ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থে তাঁর বিরোধিতা শুরু করে। মূর্তিপূজাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা তাদের সামাজিক প্রভাব ও বাণিজ্যিক সুবিধা ইসলামের আগমনে হুমকির মুখে পড়ে। ফলে যিনি একসময় সবার কাছে বিশ্বস্ত ছিলেন, তাঁকেই তারা বিরোধিতার লক্ষ্যবস্তু বানায়।
সিএ/এমআর


