ইসলামি বর্ষপঞ্জির অষ্টম মাস শাবান শুরু হয়েছে। এই মাসটি মূলত পবিত্র রমজানের প্রস্তুতির সময় হিসেবে বিবেচিত হয়। মুমিনদের জন্য শাবান আত্মশুদ্ধি, ইবাদতের অনুশীলন এবং নেক আমলে অভ্যস্ত হওয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ নিয়ে আসে। পূর্বেকার আলেমগণ শাবানের গুরুত্ব বোঝাতে বলেছেন, রজব হলো বীজ বপনের সময়, শাবান হলো সেই বীজে পানি সেচ দিয়ে চারা বড় করার সময় এবং রমজান হলো ফসল কাটার মাস।
হাদিসে এসেছে, আল্লাহর রাসুল (সা.) শাবান মাসের দিন-তারিখের হিসাবের প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দিতেন, যা অন্য মাসে এতটা করতেন না। হজরত আয়েশা (রা.) বর্ণনা করেন, নবীজি শাবান মাসে অধিক হারে নফল রোজা পালন করতেন এবং প্রায় পুরো মাসই রোজায় অতিবাহিত করতেন। এটি ছিল রমজানের দীর্ঘ সিয়াম সাধনার প্রস্তুতি।
হাদিসে আরও বলা হয়েছে, রমজানের পর সবচেয়ে ফজিলতপূর্ণ রোজা হলো শাবান মাসের রোজা। এই মাসে মানুষের বার্ষিক আমলনামা আল্লাহর দরবারে পেশ করা হয় বলে বর্ণনা রয়েছে। ফলে আত্মসমালোচনা, তওবা ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে নিজেকে শুদ্ধ করার এটি উত্তম সময়।
শাবান মাসে কোরআন তেলাওয়াত, দান-সদকা ও নেক কাজের পরিমাণ বাড়ানোর প্রতি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়। অনেক আলেম এই মাসকে ‘কোরআন পাঠের মাস’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। পাশাপাশি যাঁদের আগের রমজানের কাজা রোজা বাকি আছে, তাঁদের জন্য শাবান মাস তা আদায়ের শেষ সুযোগ হিসেবে বিবেচিত হয়।
ধর্মীয় বিশেষজ্ঞরা বলেন, শাবান মাসে নিয়মিত নফল রোজা পালন, কোরআন তেলাওয়াত বৃদ্ধি, অসহায়দের সহায়তা এবং বেশি বেশি ইস্তিগফার করলে রমজানের ইবাদত সহজ ও ফলপ্রসূ হয়। এভাবে শাবান মাস যথাযথভাবে কাজে লাগাতে পারলে রমজানের প্রকৃত বরকত অর্জন করা সম্ভব।
সিএ/এমআর


