মহান আল্লাহ তাআলা কোরআনে বলেছেন, আল্লাহ, তাঁর রাসুল ও আল্লাহর পথে সংগ্রামের চেয়ে যদি দুনিয়ার সম্পর্ক, সম্পদ ও স্বার্থ অধিক প্রিয় হয়ে ওঠে, তবে তা মানুষের জন্য সতর্কতার বিষয়। এই আয়াতের মাধ্যমে দুনিয়ার প্রতি ভালোবাসা যেন ঈমানের ওপর প্রাধান্য না পায়, সে বিষয়ে স্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
আল্লামা আশরাফ আলী থানবি (রহ.) ব্যাখ্যা করেছেন, দুনিয়ার ভালোবাসা স্বভাবগত হলে তা নিন্দনীয় নয়। কিন্তু জ্ঞান-বুদ্ধির বিচারে যদি দুনিয়াকে আল্লাহ ও রাসুলের চেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, তবে সেটিই সমস্যার মূল। দুনিয়ার ভালোবাসা থাকা সত্ত্বেও যদি আল্লাহর নির্দেশ পালনে কোনো ত্রুটি না হয়, তবে ঈমানের ভারসাম্য বজায় থাকে।
তিনি বলেন, সন্তান হারানোর দুঃখে কাঁদা স্বাভাবিক, এতে জবাবদিহি নেই। তবে দ্বিন ও দুনিয়ার স্বার্থের সংঘর্ষে যদি দুনিয়ার স্বার্থকে প্রাধান্য দেওয়া হয়, তবে অবশ্যই জবাবদিহি করতে হবে। দুনিয়ার লোভ থাকা সত্ত্বেও যদি তা পরিহার করা যায়, তবে সেটিই প্রকৃত পরহেজগারি এবং এতে সওয়াব আরও বৃদ্ধি পায়।
উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.)-এর বক্তব্য উল্লেখ করে বলা হয়েছে, ধন-সম্পদের প্রতি স্বাভাবিক আকর্ষণ থাকা দোষের নয়, তবে সেটি যেন ঈমানের পথে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়। প্রকৃত ভারসাম্য হলো দুনিয়ার প্রয়োজন মেটানো, কিন্তু আল্লাহর বিধানকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া।
সিএ/এমআর


