মানবাধিকার বর্তমান বিশ্বে একটি বহুল আলোচিত বিষয়। আধুনিক বিশ্বে জাতিসংঘের মাধ্যমে মানবাধিকারকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়া হলেও ইসলামে মানবাধিকার বহু শতাব্দী আগে থেকেই একটি ঐশী বিধান হিসেবে প্রতিষ্ঠিত। ইসলামের দৃষ্টিতে প্রতিটি মানুষ জন্মগতভাবে মর্যাদা, সমতা ও নিরাপত্তার অধিকারী।
ইসলামী মানবাধিকার অনুযায়ী মানুষের অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও চিকিৎসার অধিকার সমানভাবে নিশ্চিত করা হয়েছে। পাশাপাশি জীবন রক্ষার অধিকার, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, ন্যায়বিচার পাওয়া, ধর্মপালনের স্বাধীনতা, নারী ও শিশুর অধিকার এবং সামাজিক ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তার বিষয়গুলো ইসলামে গুরুত্ব পেয়েছে।
বিশ্ব মানবতার মুক্তির দূত হযরত মোহাম্মদ (সা.) মানুষের ন্যায্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় বাস্তব উদ্যোগ গ্রহণ করেন। ৬২২ খ্রিষ্টাব্দে তাঁর নেতৃত্বে প্রণীত মদিনার সনদকে বিশ্বের প্রথম লিখিত মানবাধিকার সংবিধান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এই সনদের মাধ্যমে বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের সহাবস্থান, নিরাপত্তা ও স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছিল।
ইসলাম মানুষের জীবনকে পবিত্র ও অমূল্য হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। বিনা কারণে কোনো প্রাণনাশকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যুদ্ধের সময়ও নিরীহ মানুষ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের নিরাপত্তার ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। সমতা ও বৈষম্যহীনতার নীতিতে ইসলাম মানুষকে জাতি, বর্ণ, ভাষা বা সামাজিক অবস্থানের ভিত্তিতে বিভক্ত না করে তাকওয়ার ভিত্তিতে মর্যাদা নির্ধারণ করেছে।
ধর্ম পালনের স্বাধীনতাও ইসলামে সুস্পষ্টভাবে স্বীকৃত। মদিনার সনদ অনুযায়ী প্রত্যেক নাগরিক নিজ নিজ ধর্ম পালনে স্বাধীন। জোরপূর্বক ধর্মান্তর নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিক, এতিম, অসহায় ও দুর্বল জনগোষ্ঠীর অধিকার রক্ষায় কুরআন ও সুন্নাহতে সুস্পষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
নারী ও শিশুর মর্যাদা প্রতিষ্ঠায় ইসলাম যুগান্তকারী ভূমিকা পালন করেছে। নারীর শিক্ষা, সম্মান ও পারিবারিক অধিকার নিশ্চিত করা হয়েছে এবং শিশু হত্যাকে কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে ব্যক্তি স্বাধীনতা ও দাসমুক্তির বিষয়েও ইসলাম মানবতার পক্ষে সুদৃঢ় অবস্থান নিয়েছে
সিএ/এমআর


