ইসলামের ইতিহাসে প্রথম শহীদ এবং প্রথম নারী শহীদ হিসেবে সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত (রা.) এক অনন্য মর্যাদায় স্মরণীয় হয়ে আছেন। ইসলামের সূচনালগ্নে ঈমান গ্রহণের কারণে মক্কার কুরাইশদের নির্মম নির্যাতনের শিকার হন তিনি। অটল বিশ্বাস, অসীম ধৈর্য ও ত্যাগের মাধ্যমে তিনি প্রমাণ করে গেছেন— আল্লাহর সন্তুষ্টির চেয়ে দুনিয়ার কোনো কিছুই অধিক মূল্যবান নয়।
সুমাইয়া ছিলেন ইয়াসির ইবনে আমিরের স্ত্রী এবং বিশিষ্ট সাহাবি আম্মার ইবনে ইয়াসিরের মাতা। আম্মার ছিলেন ইসলামের প্রথম মসজিদ নির্মাণে যুক্ত সাহাবিদের অন্যতম। পুরো পরিবারই ইসলামের প্রথম দিককার অনুসারীদের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত ছিল। ইসলাম গ্রহণের অপরাধে কুরাইশরা তাদের সবাইকে লোহার বর্ম পরিয়ে প্রচণ্ড রোদে দাঁড় করিয়ে রাখত। সুমাইয়াকে উত্তপ্ত বালুর ওপর শুইয়ে রাখা হতো, মাথার ওপর প্রখর সূর্যের তাপে দীর্ঘ সময় নির্যাতন চলত। সন্ধ্যায় সাময়িকভাবে মুক্তি দেওয়া হলেও পরদিন আবার শুরু হতো একই নির্মমতা।
সুমাইয়া বিনতে খাব্বাত ছিলেন আবু হুজাইফা বিন আল-মুগিরা আল মাখজুমির দাসী। তিনি ছিলেন আবিসিনীয় বংশোদ্ভূত কৃষ্ণাঙ্গ নারী। সে সময়ের সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গিতে তাঁকে নীচকুলজাত হিসেবে বিবেচনা করা হলেও চিন্তা, বিবেক ও সাহসিকতায় তিনি ছিলেন অনন্য। জীবন দিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, ঈমানের শক্তিই মানুষের প্রকৃত মর্যাদা নির্ধারণ করে।
জাবির ইবনে আবদুল্লাহ বর্ণনা করেন, একদিন রাসুলুল্লাহ (সা.) আম্মার ইবনে ইয়াসিরের পরিবারকে নির্যাতনের দৃশ্য দেখে অত্যন্ত ব্যথিত হন এবং তাঁদের জন্য দোয়া করেন। একই সঙ্গে জান্নাতের সুসংবাদ দেন। ইমাম আহমাদ ও ইবনে মাজাহর বর্ণনায় রয়েছে, সর্বপ্রথম যে সাতজন প্রকাশ্যে ইসলামের ঘোষণা দেন, সুমাইয়া তাঁদের অন্যতম ছিলেন।
ইসলামের দাওয়াত প্রকাশ্যে আসার পর সুমাইয়া, তাঁর স্বামী ইয়াসির ও পুত্র আম্মার কুরাইশদের তীব্র নির্যাতনের মুখে পড়েন। বহিরাগত ও দাস পরিবার হওয়ায় তাঁদের পক্ষে সহায়তা করার মতো কেউ ছিল না। প্রতিদিন সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলত অত্যাচার। নবী (সা.) তাঁদের সাহস জোগাতেন এবং বলতেন, হে ইয়াসিরের পরিবারবর্গ ধৈর্য ধরো! তোমাদের জন্য জান্নাত নির্ধারিত রয়েছে।
এক সন্ধ্যায় আবু জাহেল অশালীন ভাষায় গালাগাল করার একপর্যায়ে সুমাইয়ার দিকে বর্শা নিক্ষেপ করে। সেই আঘাতে ৬১৫ খ্রিষ্টাব্দে তিনি শাহাদাতবরণ করেন এবং ইসলামের প্রথম শহীদ হিসেবে ইতিহাসে অমর হয়ে থাকেন। পরে তাঁর স্বামী ইয়াসির ও পরিবারের অন্য সদস্যরাও নির্যাতনের শিকার হয়ে শাহাদাত লাভ করেন।
সিএ/এমআর


