আধুনিক সভ্যতায় মুদ্রা মানুষের দৈনন্দিন লেনদেনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম। প্রাচীনকাল থেকেই পণ্য বিনিময়ের ক্ষেত্রে মুদ্রার ব্যবহার চলে আসছে। ইসলামী সভ্যতায়ও মুদ্রা ব্যবস্থার উন্নয়ন একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।
ঐতিহাসিক তথ্যমতে, হজরত উমর (রা.) প্রথম ইসলামি মুদ্রার প্রচলন করেন। তাঁর খিলাফতের অষ্টম বর্ষে অর্থাৎ ২০ হিজরি সালে পারস্যের দিরহামের অনুরূপ মুদ্রা তৈরি করা হয়। এসব মুদ্রায় খলিফার নাম, তৈরির স্থান ও তারিখের পাশাপাশি বিভিন্ন ইসলামি শব্দ সংযোজন করা হয়েছিল, যা ওজন ও মানের নির্ভরযোগ্যতা নিশ্চিত করত।
পরবর্তীতে খুলাফায়ে রাশেদিনের সময় এই ব্যবস্থা আরও সুসংহত হয়। উমাইয়া খলিফা আব্দুল মালিক ইবনে মারওয়ানের আমলে ইসলামি মুদ্রাব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। তিনি স্বর্ণ ও রৌপ্য মুদ্রার নির্দিষ্ট মান নির্ধারণ করেন এবং গোটা মুসলিম সাম্রাজ্যে একক মানদণ্ড চালু করেন।
দিরহামের ওজন নিয়ে আগে বিভিন্ন অঞ্চলে ভিন্নতা থাকলেও পরে তা স্থিতিশীল করা হয়। এতে বাজারে লেনদেনে স্বচ্ছতা আসে এবং বাণিজ্য সহজ হয়। ঐতিহাসিকদের মতে, এই সময় থেকেই ইসলামি দিনার ও দিরহাম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গুরুত্বপূর্ণ মুদ্রায় পরিণত হয়।
ইসলামী মুদ্রার নকশাতেও ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতিফলন দেখা যায়। কালেমা ও কোরআনের আয়াত সংবলিত এসব মুদ্রা প্রায় এক হাজার বছর ধরে একই মান ও নকশায় প্রচলিত ছিল। এই মুদ্রা ব্যবস্থার মাধ্যমে মুসলিম বণিকরা বিশ্ববাণিজ্যে আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখতে সক্ষম হন।
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন জাদুঘরে সংরক্ষিত এসব প্রাচীন মুদ্রা ইসলামী অর্থ ব্যবস্থার ঐতিহাসিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার সাক্ষ্য বহন করছে।
সিএ/এমআর


