মানুষের জীবন সুখ ও দুঃখের সম্মিলিত পথচলা। কখনো স্বস্তি, কখনো সংগ্রাম—এই নিয়েই মানবজীবন এগিয়ে চলে। জীবনের নানা পর্যায়ে মানুষ দুশ্চিন্তায় আক্রান্ত হয়, যা ধীরে ধীরে মানসিক শক্তি ও জীবনীশক্তিকে ক্ষয় করে। অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে ব্যাহত করে এবং হতাশা বাড়িয়ে তোলে।
ইসলাম মানুষের মানসিক প্রশান্তি ও দুশ্চিন্তা দূর করার জন্য সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা দিয়েছে। আলী (রা.) দুশ্চিন্তার প্রভাব বোঝাতে বলেছেন, সৃষ্টিজগতের অনেক শক্তিশালী উপাদান থাকলেও দুশ্চিন্তা ঘুম পর্যন্ত নষ্ট করে দিতে পারে, যা মানুষের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে।
দুশ্চিন্তা মানবীয় বৈশিষ্ট্য হলেও মুমিনের করণীয় হলো আল্লাহর ওপর ভরসা রাখা। আল্লাহ তাআলা কোরআনে ইরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহকে ভয় করে, আল্লাহ তার জন্য উত্তরণের পথ বের করে দেন। ঈমান ও তাকওয়া মানুষের অন্তরে দৃঢ়তা সৃষ্টি করে এবং বিপদের সময় মানসিক শক্তি জোগায়।
দুশ্চিন্তা কমানোর অন্যতম আমল হলো অধিক হারে দরুদ পাঠ। উবাই ইবনে কাআব (রা.)-এর বর্ণনায় এসেছে, দরুদ পাঠ দুশ্চিন্তা ও কষ্ট দূর করার জন্য অত্যন্ত কার্যকর। পাশাপাশি দোয়া ও ইস্তিগফারের মাধ্যমে আল্লাহর কাছে সাহায্য চাওয়ার নির্দেশনা রয়েছে। মহানবী (সা.) দুশ্চিন্তা থেকে মুক্তির জন্য আল্লাহর কাছে আশ্রয় চাইতেন।
আখিরাতকে জীবনের প্রধান লক্ষ্য বানালে দুনিয়ার দুশ্চিন্তা অনেকটাই হালকা হয়ে আসে। যার দৃষ্টি পরকালের দিকে নিবদ্ধ থাকে, আল্লাহ তার অন্তরে তৃপ্তি দান করেন। পাশাপাশি যা আছে তা নিয়ে সন্তুষ্ট থাকা ও নিয়মিত শোকর আদায় করাও মানসিক প্রশান্তির অন্যতম চাবিকাঠি।
ইসলামের এই নির্দেশনাগুলো মেনে চললে মানুষ ধীরে ধীরে দুশ্চিন্তামুক্ত ও প্রশান্তিময় জীবনের পথে এগিয়ে যেতে পারে।
সিএ/এমআর


