কেউ যদি আমাদের কোন অনুগ্রহ বা উপকার করে, তখন আমরা প্রায়শই বলি: ‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’। আরবি এই দোয়াটির অর্থ হলো, আল্লাহ আপনাকে উত্তম প্রতিদান দান করুন।
‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’ বলার প্রথা নবীজি (সা.) ও সাহাবিদের মধ্যে প্রচলিত ছিল। হাদিসেও এ ধরনের দোয়া করার উৎসাহ দেওয়া হয়েছে, যাতে কারো অনুগ্রহের সঠিক প্রতিদান হিসেবে আল্লাহর নিকট দোয়া করা হয়।
হজরত উসামা ইবনে জায়েদ (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, কাউকে অনুগ্রহ করলে যদি অনুগ্রহপ্রাপ্ত ব্যক্তি অনুগ্রহকারীকে বলে, ‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’, তবে সে উপযুক্ত ও পরিপূর্ণ প্রশংসা প্রদর্শন করেছে। (সুনানে তিরমিজি)
হযরত আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা.) বর্ণনা করেছেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ যদি আপনাদের প্রতি অনুগ্রহ করে, তবে আপনাদেরও তাকে অনুগ্রহ করা উচিত। যদি কিছু দিতে না পারেন, অন্তত তার জন্য দোয়া করুন যেন সে বুঝতে পারে তার আচরণে আপনারা কৃতজ্ঞ। (সুনানে আবু দাউদ)
ওমর ইবনে ওমর (রা.) বলেছেন, যদি তোমরা জানো তোমাদের ভাইদের জন্য ‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’ বলার মধ্যে কী কল্যাণ নিহিত রয়েছে, তবে একে অন্যের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় বেশি বেশি বলো। (মুসান্নাফে ইবনে আবী শাইবা)
‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’-এর জবাব
কেউ যদি আপনাকে ‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’ বলে, উত্তরে আপনিও বলতে পারেন, ‘জাযাকাল্লাহু খাইরান’। হাদিসে এসেছে, একবার উসাইদ ইবনে হুযাইর (রা.) রাসুলকে (সা.) বলেন, ‘জাযাকাল্লাহু খায়রান’ বা ‘জাযাকাল্লাহু আত্-তিয়াবাল জাযা’। উত্তরে রাসুল (সা.) বললেন, ‘ফা জাযাকুমুল্লাহু খায়রান’ বা ‘ফা জাযাকাল্লাহু আত্-তিয়াবাল জাযা’। (সহিহ ইবনে হিব্বান)
এছাড়া জবাবে বলা যেতে পারে ‘ওয়া ইয়্যাকা’ বা ‘ওয়া ইয়্যাকুম’, অর্থাৎ আল্লাহ আপনাকেও উত্তম প্রতিদান দান করুন।
সিএ/এমআর


