নতুন বছরের আগমনের উচ্ছ্বাস আর নানা রেজুলেশন ও প্রতিশ্রুতির মধ্যে আমরা নীরবে একটি গুরুত্বপূর্ণ সময়ের মুখোমুখি হয়েছি। আকাশে গত ২০ দিন আগে জন্ম নেওয়া চাঁদ আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, এটি রজব মাসের চাঁদ—আল্লাহ তাআলার কাছে সম্মানিত চার পবিত্র মাসের অন্যতম।
কোরআনে আল্লাহ তাআলা বলেছেন, নিশ্চয়ই আল্লাহর কাছে মাসের সংখ্যা বারোটি এবং এর মধ্যে চারটি সম্মানিত। এ মাসগুলোতে নিজেদের প্রতি জুলুম না করার শিক্ষা দিয়েছেন। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, এক বছর বারো মাসের; এর মধ্যে চারটি সম্মানিত—তিনটি পরপর: জিলকদ, জিলহজ ও মহররম; এবং একটি হলো রজব, যা জমাদিউস সানি ও শাবানের মাঝে।
রজব মাসে নবীজি (সা.) পাঠ করতেন একটি বিশেষ দোয়া:
আল্লাহুম্মা বারিক লানা ফি রাজাবা ওয়া শাবানা ওয়া বাল্লিগনা রামাদান।
অর্থ: হে আল্লাহ, আমাদের জন্য রজব ও শাবান মাসে বরকত দান করুন এবং আমাদের রমজান পর্যন্ত পৌঁছে দিন। (আদ-দাওয়াতুল কাবীর লিলবায়হাকী)
এই দোয়া থেকে বোঝা যায়, রমজানকে সঠিকভাবে গ্রহণ করতে অন্তত দুই মাসের প্রস্তুতি প্রয়োজন। রজব ও শাবান মাসে শারীরিক, মানসিক, পারিবারিক ও সামাজিকভাবে প্রস্তুতি নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।
রমজানের প্রস্তুতির জন্য রজব ও শাবান মাসে অনুসরণীয় কিছু কার্যক্রম:
১. নফল রোজা রাখুন। সপ্তাহে এক বা দু’দিন, কিংবা আগের কাজা রোজা পূরণ করতে পারেন। এটি শরীর ও মনকে রমজানের রোজার জন্য প্রস্তুত করে।
২. কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক নতুন করে গড়ে তুলুন। রমজান কোরআন নাজিলের মাস। রজব মাস থেকে প্রতিদিন কয়েক পৃষ্ঠা তিলাওয়াত শুরু করে ধীরে ধীরে পুরো কুরআন তিলাওয়াতের অভ্যাস তৈরি করুন।
৩. রমজানে দৈনন্দিন রুটিন পরিকল্পনা করুন। কত ঘন্টা ইবাদত করবেন, ঘরের কাজ, বাহিরের কাজ, ঘুমের সময় নির্ধারণ করুন। ইতেকাফ বা সদকা পরিকল্পনা থাকলে এখন থেকেই প্রস্তুতি নিন।
৪. পূর্ববর্তী গুনাহ ও এড়িয়ে যাওয়া ইবাদতের জন্য সত্যিকার তওবা করুন। রমজানের আগেই আল্লাহর ক্ষমার যোগ্য হওয়ার চেষ্টা করুন।
৫. সংযম ও আত্মসংযমের অভ্যাস গড়ে তুলুন। রান্না-বান্না, বাজার সদাইয়ে অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমান, সময় অপচয় হ্রাস করুন এবং ইবাদতের জন্য সময় বরাদ্দ শুরু করুন।
৬. কোরআনিক দোয়া ও জিকির মুখস্থ করুন। পরিবারের সঙ্গে আয়াত ও দোয়া শেখার প্রতিযোগিতা করুন। এটি আত্মার প্রশান্তি এবং আল্লাহর নৈকট্য অর্জনে সহায়ক।
রমজানের প্রস্তুতি শুধু শারীরিক নয়, অন্তরের প্রস্তুতিরও বিষয়। এই মাসগুলোকে অর্থবহ করে তোলার মাধ্যমে আমরা রমজানকে যথাযথভাবে স্বাগত জানাতে পারি।
সিএ/এমআর


