নিয়ত হলো মনে কোনো কাজের দৃঢ় ইচ্ছা করা। এই ইচ্ছা সব আমলের জন্য জরুরি, নামাজের জন্যও বিশেষভাবে প্রযোজ্য। নামাজের সময় কেউ যখন দাঁড়াবে, তার অন্তরে থাকতে হবে যে সে নামাজ শুরু করছে, কোন নামাজ শুরু করছে এবং কত রাকাত নামাজ পড়বে—এই অন্তরের জ্ঞান ও ইচ্ছাকেই নিয়ত বলা হয়।
তবে নামাজ শুরু করার আগে মুখে আরবিতে নিয়ত পড়া বা উচ্চারণ করা শর্ত নয়। আমাদের দেশে প্রচলিত যে আরবি বাক্যগুলোকে নিয়ত হিসেবে প্রচার করা হয়, সেগুলো কোরআন-হাদিসে নির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই। যদি কেউ চায়, সে নিজের ভাষায় নিয়ত মুখে উচ্চারণ করতে পারে। যেমন জোহরের ফরজ নামাজ শুরু করার আগে মনে মনে বা মুখে বলা যায়, ‘আমি আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কিবলামুখী হয়ে জোহরের চার রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করছি’।
ফরজ নামাজে অবশ্যই নির্দিষ্ট নামাজটি জানার জন্য অন্তরের নিয়ত থাকা জরুরি। কাজা নামাজে ওয়াক্ত নির্দিষ্ট করে নিয়ত থাকা আবশ্যক। যদি কারোর কাজা নামাজের সংখ্যা বেশি হয় এবং তার তারিখ মনে না থাকে, সে এভাবে নিয়ত করবে, ‘আমার জিম্মায় কাজা হিসেবে থাকা সর্বশেষ জোহরের নামাজের কাজা আদায় করছি’। এভাবে প্রত্যেক ওয়াক্তের কাজা নামাজ আদায় করতে হবে যতক্ষণ পর্যন্ত না নিশ্চিত হয় যে জিম্মায় আর কোনো কাজা নামাজ নেই।
ফরজের সাথে আদায় করা সুন্নত নামাজেও ওয়াক্ত নির্দিষ্ট করে নিয়ত করা ভালো, তবে জরুরি নয়। যেমন, ফজরের আগে দু’রাকাত বা জোহরের আগে চার রাকাত সুন্নত নামাজে শুধু ‘নামাজ আদায় করছি’ এই নিয়ত থাকলেও যথেষ্ট। বিতর নামাজের সময় অবশ্যই ‘বিতর নামাজ পড়ছি’ এই নিয়ত থাকতে হবে।
নফল নামাজেও একই নিয়ম প্রযোজ্য। শুধু ‘নামাজ আদায় করছি’ বা ‘নফল নামাজ আদায় করছি’ এই নিয়ত থাকলেই নামাজ গ্রহণযোগ্য।
সিএ/এমআর


