হাদিসে কুদসিতে বর্ণিত রয়েছে, আল্লাহ তাআলা বলেন, আল্লাহ ভাল ও মন্দ কাজ লিখে রাখেন। তিনি ব্যাখ্যা করেন, যে ব্যক্তি ভাল কাজের জন্য দৃঢ় সংকল্প করে কিন্তু তা সম্পন্ন করতে ব্যর্থ হয়, আল্লাহ তার আমলনামায় একটি পূর্ণ নেকি লিখেন। আর যদি সে তা সম্পন্ন করে তবে আল্লাহ তার আমলনামায় দশ নেকি থেকে সাতশত পর্যন্ত; বরং তার চেয়েও বেশি নেকি লেখেন। যদি কারো মনে মন্দ কাজের বাসনা জাগে কিন্তু তা সে কাজে পরিণত না করে, আল্লাহ তার জন্য একটি পূর্ণ নেকি লেখেন। যদি সে তার বাসনা কাজে পরিণত করে, তবে তার জন্য একটি গুনাহ লেখেন। (সহিহ বুখারি: ৬৪৯১, সহিহ মুসলিম: ১৩১)
এই হাদিস থেকে আমরা বুঝতে পারি, মুমিনের কাজের নিয়ত ও উদ্দেশ্য আল্লাহর কাছে কত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রধান শিক্ষাগুলো হলো:
১. মুমিনের কাজ চার রকম হতে পারে:
- ভালো কাজের নিয়ত করে, কিন্তু তা করতে ব্যর্থ হলে আল্লাহ একটি পূর্ণ নেকি দেন।
- নেক কাজের নিয়ত ও সম্পন্ন করলে আল্লাহ দশ থেকে সাতশত বা তার চেয়েও বেশি নেকি দেন।
- কোনো খারাপ কাজের ইচ্ছা জাগলেও আল্লাহর ভয়ে তা না করলে আল্লাহ একটি পূর্ণ নেকি দেন।
- খারাপ কাজ করলে এক গুনাহ লিখা হয়, বাড়িয়ে লেখা হয় না।
২. উত্তম কাজের প্রথম ধাপ হলো নিয়ত করা। যে নিয়ত ভালো, আল্লাহ তার জন্য সওয়াব দান করবেন। অপরাধ প্রতিরোধও মুমিনের দায়িত্ব, যা পূর্ণ নেকি হিসেবে ধরা হয়।
৩. এই হাদিসে আল্লাহর অনুগ্রহ ও ইহসান প্রকাশ পায়। নেক কাজের সওয়াব বহুগুণ বাড়িয়ে লিখেন, কিন্তু মন্দ কাজের জন্য কেবলমাত্র তারই দায় নথিভুক্ত করা হয়। আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় তিনি অণু পরিমাণও জুলুম করেন না; ভালো কাজ হলে দ্বিগুণ করে দেন এবং বিপুল প্রতিদান প্রদান করেন। (সুরা নিসা: ৪০)
সিএ/এমআর


