পরকালে সাফল্য ও মুক্তি অর্জন করতে মুমিনদের জন্য আল্লাহর হুকুম মেনে চলা ও রাসুল (সা.) এর দেখানো পথ অনুসরণ করা জরুরি। আরবি শব্দ জুলুমের অর্থ হলো নির্যাতন বা অবিচার। এটি হতে পারে কারও অধিকার হরণ, বিনা অপরাধে নির্যাতন বা আর্থিক, দৈহিক ও মর্যাদার ক্ষতি সাধন। যিনি এই ধরনের কার্যকলাপে লিপ্ত হন, তাকে জালিম বা অত্যাচারী বলা হয়।
মহান আল্লাহ জালিমদের অপছন্দ করেন এবং ন্যায়বিচারকে প্রিয় মনে করেন। হাদিসে বর্ণিত, সাফওয়ান ইবনু মুহরিয আল-মাযিনী (রা.) বলেন, একদিন তিনি ইবনু উমর (রা.) এর সঙ্গে ছিলেন। তখন এক ব্যক্তি জানতে চায়, কেয়ামতের দিন আল্লাহ ও তার বান্দাদের মধ্যে কি হবে। ইবনু উমর (রা.) বলেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, আল্লাহ তা’য়ালা মুমিন ব্যক্তিকে আবরণ দ্বারা ঢেকে নেবেন এবং তার পাপ স্বীকার করিয়ে মাফ করবেন, কিন্তু কাফির ও মুনাফিকদের জন্য আল্লাহর লানত থাকবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২৭৯)
জুলুমের ক্ষেত্রে যেমন মাজলুমকে সাহায্য করার নির্দেশ আছে, তেমনি জালিমকে সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার কথাও হাদিসে এসেছে। আনাস ইবনু মালিক (রা.) বর্ণনা করেন, রাসুল (সা.) বলেছেন, “তোমার ভাইকে সাহায্য করো, সে জালিম হোক অথবা মাজলুম।” (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২৮১)
রাসুল (সা.) আরও বলেন, মুমিনদের সাতটি বিষয়ে অনুসরণ করতে হবে, যার মধ্যে মাজলুমকে সাহায্য করা অন্যতম। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২৮৩) এছাড়া আবদুল্লাহ ইবনু উমর (রা.) বর্ণনা করেন, জুলম কিয়ামতের দিন অন্ধকারের রূপ ধারণ করবে। (সহিহ বুখারি, হাদিস: ২২৮৫)
খোদ আল্লাহ কুরআনে নির্দেশ দিয়েছেন, জালিমরা শীঘ্রই জান্নাতের পরিবর্তে জাহান্নামে প্রত্যাবর্তন করবে। (সুরা আশ-শু’আরা, আয়াত ২২৭) তিনি বলেন, জালিমদের জন্য আগুন প্রস্তুত করা হয়েছে, যা লেলিহান শিখায় তাদের ঘিরে রাখবে। পানীয় চাইলে গলিত শিশুর মতো পান দেওয়া হবে, এবং তাদের আশ্রয়স্থলও নিকৃষ্ট হবে। (সুরা কাহাফ, আয়াত ২৯)
সিএ/এসএ


