Monday, February 9, 2026
22 C
Dhaka

বাংলাদেশের বর্তমান সংকটকে রাজনীতি, অর্থনীতি ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে দেখলে…..

এই সংকটের শুরু হয় আসলে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর ক্রমান্বয়ে ভেঙে পড়ার ফলে। নির্বাচন, বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন, অর্থনীতি- সবগুলো ক্ষেত্রেই একটি সাধারণ বৈশিষ্ট্য লক্ষণীয়, “ক্ষমতার অতিরিক্ত কেন্দ্রীকরণ ও জবাবদিহিতার অনুপস্থিতি।”

সম্প্রতি বিএনপি’র ৪৮ পাতার ইশতেহারে এই সংকটকে উন্নয়ন বনাম অনুন্নয়নের প্রশ্নে সীমাবদ্ধ না রেখে, রাষ্ট্রের কাঠামোগত ব্যর্থতার জায়গা থেকে বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করা হয়েছে, সমাধানের পথ খোজার চেষ্টা করা হয়েছে। যেটা অন্য কোন দল করেনি, করার ইচ্ছাও পোষণ করেনি। আমি মনে করি একজন সচেতন ভোটার হিসেবে বিএনপি’র এত সুন্দর ইশতেহার নিয়ে আরো অধিক আলোচনা প্রয়োজন।

আজকে ইশতেহারের মূল বিষয় গুলো নিয়ে একটু আলোচনা করা যাক।

Rebuilding Constitutionalism in a Post Authoritarian Cotext –

রাষ্ট্রবিজ্ঞানে একটি প্রতিষ্ঠিত সত্য হলো- রাষ্ট্র টেকে প্রতিষ্ঠান দিয়ে, ব্যক্তি দিয়ে নয়। বাংলাদেশের বর্তমান সংকটকে যদি একাডেমিক ভাষায় ব্যাখ্যা করা যায় তবে এটা একটা Constitutional Breakdown এর পর্যায়ে পড়ে যেখানে দেশের নির্বাহী বিভাগ ধীরে ধীরে আইন ও বিচার বিভাগকে গ্রাস করেছে গত বহু বছর ধরে। সে হিসেবে কিছুদিন আগেও বাংলাদেশ ছিলো একটি ইলেক্ট্রোরাল অটোক্রেসি!

বিএনপির তার নির্বাচনী ইশতেহারে – সংসদের কার্যকর ভূমিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠা, প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার উপর প্রাতিষ্ঠানিক সীমা, বিচার বিভাগের প্রশাসনিক ও আর্থিক স্বাধীনতা, সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানসমূহের ওপর নির্বাহী হস্তক্ষেপ বন্ধ করা ইত্যাদি বিষয়ে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ডিসেন্ট্রালাইজেশন অব পাওয়ার প্রতিষ্ঠার জন্য যেটা সবচেয়ে বেশি জরুরি এবং এটা লিবারেল কন্সটিটিউশনালিজম এর ভিত্তিও বটে। তাই নিসন্দেহে বিএনপি একটা ফাংশনাল ইন্সটিটিউশনাল স্টেটের পরিকল্পনা দিচ্ছে আমাদের। যেটা অত্যন্ত আশাবাদী।

From Procedural Elections to Democratic Legitimacy –

রবার্ট ডাল গণতন্ত্রকে সংজ্ঞায়িত করেছেন ‘Polyarchy’ হিসেবে। যেখানে শুধু নির্বাচন এক্সিস্ট করেনা, বরং কম্পিটিশন, ইনক্লুসিভিটি, ট্রাস্ট ওরদিনেস একসাথে থাকতে হয়। বাংলাদেশে নির্বাচন থাকলেও এই তিনটির কোনোটিই পূর্ণমাত্রায় ছিলোনা প্রায় দুই দশক ধরে।

এখানে বিএনপি স্বাধীন ও শক্তিশালী নির্বাচন কমিশন এর ঘোষণা দিয়েছে। প্রশাসনের নিরপেক্ষতা এবং নির্বাচনকালীন রাষ্ট্রীয় যন্ত্রের অপব্যবহার বন্ধের কথাও বলেছে। সমসাময়িক ইতিহাস ঘেটে থাকলে দেখবেন লাতিন আমেরিকা (Chile, Argentina) ও পূর্ব ইউরোপ (Poland, Czech Republic) দেখিয়েছে – “Credible elections precede economic stabilisation, not the other way around.” যেটা বিএনপি গত দেড় বছর ধরে বলে আসছিলো। তাই বিএনপি নির্বাচিত হয়ে যদি এগুলো বাস্তবায়ন করতে পারে তাহলে রাষ্ট্রের দ্বিতীয়বার এই এনার্কির সম্মুখীন হবার নুন্যতম অবকাশ নেই! সত্যিকার অর্থেই আশাব্যঞ্জক সেটা।

Rule of Law as the Foundation of the State –

ফ্রান্সিস ফুকুইয়ামা রাষ্ট্রের তিন স্তম্ভ চিহ্নিত করেন, যথা- State capacity, Rule of law, Accountability এই তিনটা দিয়ে। বাংলাদেশে প্রথমটি আংশিক আছে, কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয়টি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত। নেই বললেই চলে। গত দশকে তার কবর রচিত হয়েছে।

তাই বিএনপি বলেছে, বিচার বিভাগের পূর্ণ স্বাধীনতা তারা নিশ্চিত করবে। রাজনৈতিক মামলা পুনর্বিবেচনা, গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যার অবসান ঘটাবে তারা। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর জবাবদিহি এবং মানবাধিকার কমিশন শক্তিশালীকরণ হবে তাদের অন্যতম প্রাধান্য। World Justice Project এর সূচকে দেখা যায়, যেসব দেশে রুল অব ল দূর্বল সেখানে বিনিয়োগ সামাজিক স্থিতি ও নাগরিক আস্থা সবই ক্ষয়প্রাপ্ত হয়। তাই আর্থ সামাজিক এবং রাজনৈতিক উন্নয়নে বিএনপির ইশতেহার যদি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হয় তাহলে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার যে স্বপ্ন সেটার প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেখবো আমরা।

Bureaucracy and Civil Services –

ম্যাক্স ওয়েবারের মতে আধুনিক রাষ্ট্র দাঁড়িয়ে থাকে – “merit-based bureaucracy, political neutrality, clear hierarchy and rules” এর উপরে। বাংলাদেশে সিভিল সার্ভিস দীর্ঘদিন ধরে Patron–Client Politics থিওরি দ্বারা প্রভাবিত। পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর প্রভাবে এটা থেকে বের হতে পারছিলোনা সিভিল প্রশাসন!!!

বিএনপির এখানে প্রস্তাব হচ্ছে – নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দলীয় প্রভাব বন্ধ করা, প্রশাসনকে বিকেন্দ্রীকরণ, স্থানীয় সরকারকে শক্তিশালী করা এবং সিভিল সার্ভিসের আমূল সংস্কার করা। আপনি খেয়াল করলে দেখবেন দক্ষিণ কোরিয়া ও সিঙ্গাপুরে প্রশাসনিক সংস্কার অর্থনৈতিক উন্নয়নের আগেই শুরু হয়েছিল। তাই জুলাই আপরাইসজিং এর মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য এটা সব থেকে জরুরি।

From Crony Capitalism to Inclusive Growth –

রাজনৈতিক অর্থনীতিতে একটি পরিচিত ধারণা হলো Crony Capitalism; যেখানে রাষ্ট্রীয় নীতি, ব্যাংকিং সুবিধা ও বাজার প্রবেশাধিকার সীমিত গোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। বাংলাদেশে বর্তমান অর্থনৈতিক সংকটের লক্ষণগুলো যদি দেখি- দীর্ঘস্থায়ী উচ্চ মূল্যস্ফীতি, মধ্যবিত্তের প্রকৃত আয় হ্রাস, ব্যাংকিং খাতে খেলাপি ঋণের কাঠামোগত বিস্তার, বৈদেশিক মুদ্রা সংকট ইত্যাদি; এসব গুলোকে IMF ও World Bank তাদের ভাষ্যে ‘Policy Induced Vulnerabilities’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে বিভিন্ন রিসার্চ প্রোজেক্টে।

সে জায়গাতে দাঁড়িয়েই বিএনপি তাদের ইশতেহারে বলেছে – অর্থনীতিকে তারা শুধু জিডিপি কাউন্ট থেকে সরিয়ে সত্যিকারের স্টাবিলিটির দিকে নিয়ে আসতে চায়। বিএনপি হুশিয়ারি দিয়েছে খেলাপি ঋণের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা তারা গ্রহণ করবেই। ব্যাংক পরিচালনায় রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ বন্ধ করা, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কার্যকর স্বাধীনতা, উৎপাদনমুখী শিল্প ও এসএমই খাতে যথাযথ ঋণপ্রবাহ এবং রপ্তানি ও উৎপাদনভিত্তিক অর্থনীতির দিকে বেশি ঝুকতে চাচ্ছে তারা সরকার গঠন করতে পারলে। এমনটা বাস্তবায়ন হলে বর্তমান দৃশ্যপট আমূল বদলে যাবে।

দক্ষিণ কোরিয়া, তাইওয়ান ও ভিয়েতনামের দিকে তাকালে আমরা বুঝবো যে টেকসই প্রবৃদ্ধির পূর্বশর্তই হলো স্টেট ক্যাপাসিটির আন্ডারে ফিনানশিয়াল ডিসিপ্লিন। তাই আমরা বিএনপির এই ইনক্লুসিভ পলিটিক্যাল ইকোনমির প্লান নিয়ে আশাবাদী হতেই পারি।

Restoring the Social Contract –

OECD ও IMF এর স্টাডি অনুযায়ী মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্ষয় রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতার সবচেয়ে বড় পূর্বাভাস। মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে অখুশি রেখে পলিটিক্যাল স্ট্যাবিলিটি কখনো সম্ভব না। সেখানে বাংলাদেশে কর কাঠামো ও মূল্যস্ফীতি যৌথভাবে মিডল ক্লাসকে শেষ করে দিচ্ছে।

বিএনপি বলেছে তারা কর ব্যবস্থার সরলীকরণ নিয়ে কাজ করবে। মধ্যবিত্তের উপর প্রত্যক্ষ করের চাপ হ্রাস করা, কর ফাঁকি বন্ধ করে কর ন্যায্যতা নিশ্চিত করা, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে কার্যকর বাজার নজরদারি জারি রাখা এগুলো নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা অত্যন্ত জোরালো।

থমাস পিকেটি তার বেশ কয়েকটি গবেষণায় দেখিয়েছেন, যেসব রাষ্ট্রে ট্যাক্স জাস্টিস নেই, সেখানে সামাজিক আস্থা ভেঙে পড়ে। মধ্যবিত্ত শ্রেণী সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই বিএনপির ইশতেহারের এই অংশ অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক।

Demographic Dividend –

UNDP ও ILO রিপোর্ট অনুযায়ী, যুব বেকারত্ব রাজনৈতিক সহিংসতা ও রাষ্ট্রীয় অস্থিরতার প্রধান উৎস। বাংলাদেশ একটি ‘Youth Bulge’ পর্যায়ে আছে; যেখানে সঠিক নীতি গ্রহণ করা না হলে এটি অদূর ভবিষ্যতে আরো ঝুঁকিতে পরিণত হবে।

এক্ষেত্রে বিএনপির প্রস্তাবই হচ্ছে মেধাভিত্তিক সরকারি নিয়োগ, বিসিএস ও পাবলিক সার্ভিস সংস্কার, যুব উদ্যোক্তাদের জন্য ফান্ড ও প্রশিক্ষণ, প্রাইভেট সেক্টর-লিডিং কর্মসংস্থান তৈরি করা ইত্যাদি।

আমরা দেখেছি ভিয়েতনাম ও মালয়েশিয়া যুব কর্মসংস্থানকে Industrial policy & Skills Training এর সাথে এলাইনড করে কতোটা সফল আজকে। আর এমনটা করতে পারলে আমাদের দেশে মার্কেট বেজড এমপ্লয়মেন্ট এর দুয়ার খুলে যাবে।

Education System, Change to Human Capital Development –

অমর্ত্য সেনের মত মানুষরা যথাযথ শিক্ষাকে দেখেন ‘Capability Expansion’ হিসেবে। কেবল চাকরির প্রস্তুতি হিসেবে পড়ানো হচ্ছে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সর্বপ্রধান সমস্যা। পাশাপাশি আছে রাজনৈতিক ও আদর্শিক হস্তক্ষেপ, কারিগরি শিক্ষার সামাজিক অবমূল্যায়ন, গবেষণা ও উদ্ভাবনের অভাব ইত্যাদি।

বিএনপি বলেছে শিক্ষা ব্যবস্থাকে রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত করবে তারা। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও কারিগরি শিক্ষার বিস্তার, বিশ্ববিদ্যালয়ে একাডেমিক স্বাধীনতা এবং গবেষণা ও ইনোভেশনকে প্রণোদনা দিবে বিএনপি, যদি সরকার গঠন করতে পারে। ফিনল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া ও জার্মানির দিকে তাকালে আমরা বুঝবো যে শিক্ষা সংস্কার ছাড়া অর্থনৈতিক রূপান্তর অসম্ভব।

From Out-of-Pocket Survival to Basic Welfare Provision in Health Care –

স্বাস্থ্য অর্থনীতিতে একটি প্রতিষ্ঠিত ধারণা হলো, ‘High out-of-pocket health expenditure’ রাষ্ট্রকে ধীরে ধীরে সামাজিকভাবে ভেঙে দেয়। বাংলাদেশে বর্তমানে মোট স্বাস্থ্য ব্যয়ের প্রায় ৬৫–৭০% ব্যক্তিগত পকেট থেকে আসে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় অন্যতম সর্বোচ্চ। এর ফলে দরিদ্রায়ন (medical impoverishment), স্বাস্থ্যসেবায় বৈষম্য, গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি ঝুঁকি বেড়েই যাচ্ছে।

বিএনপি তাদের ইশতেহারে স্বাস্থ্য খাতকে দান বা সহানুভূতির বিষয় হিসেবে না দেখে ‘Policy Obligation’ এর জায়গা থেকে বিবেচনা করেছে। বিএনপি বলেছে সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজের সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, প্রাইমারি হেলথ কেয়ার ও ইউনিয়ন-ভিত্তিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা, মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যে অগ্রাধিকার প্রণয়ন এবং চিকিৎসা ব্যয় কমাতে রাষ্ট্রীয় হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে কাজ করবে তারা।

শ্রীলঙ্কা, থাইল্যান্ড ও ভিয়েতনাম এর উদাহরণ টানলে আমরা দেখবো যে সীমিত সম্পদের দেশও Basic Universal Health Coverage নিশ্চিত করতে পারে যদি রাজনৈতিক অগ্রাধিকার স্পষ্ট থাকে। তাই বিএনপির প্রস্তাব অবাস্তব কিছু নয়।

Correcting Urban Bias and Restoring Rural Stability –

মাইকেল লিপটন এর ‘Urban Bias Theory’ অনুযায়ী, শহরমুখী উন্নয়ন নীতি দীর্ঘমেয়াদে রাষ্ট্রীয় অস্থিতিশীলতা তৈরি করে। বাংলাদেশে কৃষি খাত এখনও প্রায় ৪০% মানুষের জীবিকার উৎস, অথচ এই সেক্টরে নীতি অগ্রাধিকার সবচেয়ে কম।

বিএনপি কথা দিয়েছে, কৃষকের জন্য ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করবে তারা। সার, বীজ ও সেচ ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনা, কৃষিপণ্যের সংরক্ষণ ও বাজার ব্যবস্থাপনা ঠিক করা এবং গ্রামীণ অবকাঠামো ও কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে বিএনপি কাজ করবে সরকার গঠন করতে পারলে। FAO ও IFPRI এর গবেষণায় দেখা যায় খাদ্য নিরাপত্তা কেবল উৎপাদনের প্রশ্ন নয়! এটা ‘Market access & Price Stability’ এরও প্রশ্ন। বিএনপির লক্ষ্য হচ্ছে শুধু ভোটব্যাংক নয়, গ্রামাঞ্চলকে ইকোনমিক স্ট্যাবিলাইজার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা। যাতে বাংলাদেশকে কারো মুখাপেক্ষী না হতে হয়।

From Charity-Based Policy to Rights-Based Framework –

UNDP ও ILO সামাজিক সুরক্ষাকে সংজ্ঞায়িত করে একটি রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব হিসেবে। বাংলাদেশে সামাজিক সুরক্ষা প্রোগ্রাম থাকলেও সেগুলো খণ্ডিত, রাজনৈতিকভাবে প্রভাবিত এবং দীর্ঘমেয়াদে একদমই কার্যকর নয়।

বিএনপি নারী কর্মসংস্থান ও নিরাপত্তার উপর জোর দিয়েছে। শিশু সুরক্ষা ও শিশুশ্রম প্রতিরোধ করা, প্রবীণ-প্রতিবন্ধী ও অসহায় জনগোষ্ঠীর জন্য টেকসই সুরক্ষা ব্যবস্থা, সামাজিক নিরাপত্তাকে অধিকারভিত্তিক করা নিয়ে বিএনপির পরিকল্পনা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। ব্রাজিলের ‘Bolsa Familia’ বা দক্ষিণ আফ্রিকার ‘Social Grant System’ আমাদের দেখিয়েছে অধিকারভিত্তিক সামাজিক সুরক্ষা দারিদ্র্য কমায় এবং রাজনৈতিক স্থিতি বাড়ায়। একইভাবে “BNP is also defining welfare as entitlement not a favour.”

Strategic Autonomy in a Polarised World –

আধুনিক আন্তর্জাতিক সম্পর্ক তত্ত্বে ‘Strategic Autonomy’ একটা গুরুত্বপূর্ণ ধারণা। বিশেষত আমাদের মত ছোট রাষ্ট্রের জন্য। বাংলাদেশ বর্তমানে ভূ-রাজনৈতিকভাবে একটি ‘Competitive Power Environment’ এর মধ্যে আছে।

বিএনপি চাচ্ছেই জাতীয় স্বার্থভিত্তিক পররাষ্ট্রনীতি, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক ভারসাম্য, অর্থনৈতিক কূটনীতি ও প্রবাসী স্বার্থ সংরক্ষণ এবং সার্বভৌমত্ব প্রশ্নে আপসহীন অবস্থান রাখতে যেকোন মুহূর্তে। তাই বিএনপির খুবই পরিস্কার পলিসি, “বন্ধুকে হ্যা, প্রভুকে না!”

স্টিফেন ওয়াল্ট এর ‘Balance of Threat Theory’ অনুযায়ী, অতিরিক্ত একমুখী নির্ভরতা ছোট রাষ্ট্রকে দুর্বল করে দেয়। যেটা আমরা গত দুই দশক দেখেছি। তাই বিএনপির বন্ধুকে হ্যা প্রভুকে না নীতি বাংলাদেশের জন্য অবশ্যই সুফল বয়ে আনবে যদি পলিটিক্যাল স্ট্যাবিলিটি আনা যায় দেশে।

সর্বশেষ- আপনি গুড সিটিজেন হিসেবে বিএনপির ৪৮ পাতার এই ইশতেহার বিবেচনা করলে দেখবেন এটা পপুলিস্ট কোন ইশতেহার না। এই ইশতেহারে কোন আহামরী আকাশচুম্বী প্রতিশ্রুতির তালিকা নেই কিন্তু রাষ্ট্র সংস্কারের পুরো নকশা আপনি পাবেন এতে। বিএনপি ক্ষমতাকে ব্যক্তি থেকে সরিয়ে সংবিধান ও জবাবদিহির কাঠামোয় ফেরাতে চায়। এখানে স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা কোন চ্যারিটির ভাষায় নয় বরং নাগরিক অধিকার হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, এই ইশতেহার আবেগী পপুলিজম এড়িয়ে একাডেমিকভাবে গ্রহণযোগ্য, বৈশ্বিকভাবে সঙ্গতিপূর্ণ এবং বাস্তবতার নিরিখে সংস্কারের পথ দেখিয়েছে। এই ইশতেহার আমাদের সেই স্বপ্নের রাষ্ট্রের সবচেয়ে স্পষ্ট ও বিশ্বাসযোগ্য রূপরেখা হবে ইন শা আল্লাহ। বাংলাদেশ জিন্দাবাদ। 🇧🇩

মুজাহিদুল ইসলাম সিয়াম, সিনিয়র জয়েন্ট সেক্রেটারি, বিএনপি – ব্রিটিশ কলম্বিয়া, কানাডা

সিএ/জেএইচ

spot_img

আরও পড়ুন

ছোট ভালো কাজেও মিলতে পারে বড় সওয়াব

ইসলামে সদকা বা দান কেবল অর্থ ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ...

চাঁদপুর হবে আধুনিক ও বৈষম্যহীন জনপদ: অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে ১১ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে...

এক সপ্তাহে ৪০০ বিলিয়ন ডলার কমল প্রযুক্তি কোম্পানির বাজারমূল্য, এআই–বাবদে চাপ

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত উদ্বেগের...

সেনাবাহিনীর ভুয়া মেজর গ্রেফতার, ব্যবসায়ীর টাকা হাতানোর সময় আটক

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র আলগী বাজারে সেনাবাহিনীর...

প্রিয়জনের জন্য নিখুঁত উপহার বাছাইয়ের সহজ কৌশল

ভালোবাসা দিবসসহ বিশেষ কোনো দিনে প্রিয়জনকে উপহার দেওয়ার আনন্দ...

আইসিসির সঙ্গে বৈঠকের পর সরকারের সঙ্গে আলোচনায় বসছে পিসিবি

ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকে পাকিস্তানকে...

দেশের বাজারে এলো লেনোভো আইডিয়া সেন্টার মিনি সিরিজ

দেশের বাজারে নতুন মডেলের ডেস্কটপ কম্পিউটার ‘লেনোভো আইডিয়া সেন্টার...

সিরাজগঞ্জে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর পক্ষে ধানের শীষে গণসংযোগ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সিরাজগঞ্জে বিএনপির...

ভোটকেন্দ্রের কাছে সাংবাদিকদের মোবাইল নিষেধাজ্ঞা: চবিসাসের তীব্র প্রতিবাদ

আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে...

লাহোরে আইসিসি-পিসিবির বৈঠকে কী পেতে পারে বাংলাদেশ

লাহোরে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সংস্থা...

৭৮তম ডিজিএ অ্যাওয়ার্ড: অস্কারের দৌড়ে এগিয়ে গেলেন পল থমাস অ্যান্ডারসন

হলিউডের পরিচালক সংগঠন ডিরেক্টরস গিল্ড অব আমেরিকা (ডিজিএ) প্রতিবছর...

আন্দামান সাগরে বাংলাদেশগামী জাহাজডুবি, ছড়িয়ে পড়েছে তেল!

আন্দামান সাগরে মালয়েশিয়া থেকে বাংলাদেশ অভিমুখে আসার পথে পানামার...

বার্সেলোনার বিপক্ষে বছরের ‘প্রথম’ গোল করলেন মেসি

লিওনেল মেসি ও বার্সেলোনা যেন একে অপরের পরিপূরক। যদিও...
spot_img

আরও পড়ুন

ছোট ভালো কাজেও মিলতে পারে বড় সওয়াব

ইসলামে সদকা বা দান কেবল অর্থ ব্যয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। বরং প্রতিটি ভালো কাজই সদকা হিসেবে গণ্য হয়—এমন শিক্ষাই দিয়েছেন মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)।...

চাঁদপুর হবে আধুনিক ও বৈষম্যহীন জনপদ: অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া

চাঁদপুর-৩ (সদর-হাইমচর) আসনে ১১ দলীয় জোট ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী অ্যাডভোকেট শাহজাহান মিয়া বলেছেন, "ছাত্র-জনতার রক্তক্ষয়ী আন্দোলন ও ত্যাগের বিনিময়ে...

এক সপ্তাহে ৪০০ বিলিয়ন ডলার কমল প্রযুক্তি কোম্পানির বাজারমূল্য, এআই–বাবদে চাপ

বিশ্বের শীর্ষ প্রযুক্তি কোম্পানিগুলো কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) সংক্রান্ত উদ্বেগের কারণে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রায় ৪০০ বিলিয়ন ডলার বাজারমূল্য হারিয়েছে। মার্কিন, ইউরোপ ও এশিয়ার শেয়ারবাজারে...

সেনাবাহিনীর ভুয়া মেজর গ্রেফতার, ব্যবসায়ীর টাকা হাতানোর সময় আটক

চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার প্রধান বাণিজ্যিক কেন্দ্র আলগী বাজারে সেনাবাহিনীর ‘মেজর’ পরিচয়ে চাঁদাবাজি করার সময় কামাল হোসেন গাজী (৪৮) নামের এক ধুরন্ধর প্রতারককে আটক করেছে...
spot_img