জাপানে বিয়ের পর স্বামী-স্ত্রীকে একই পারিবারিক নাম ব্যবহার বাধ্যতামূলক—এমন আইনি বাধ্যবাধকতা এড়াতে ভিন্নধর্মী এক উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। রাজধানী টোকিওতে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে একই পদবিধারী নারী-পুরুষদের মধ্যে পরিচয়ের সুযোগ তৈরি করা হচ্ছে, যা ইতোমধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
একটি রেস্তোরাঁয় আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া নারী-পুরুষদের নির্দিষ্ট সময়ের জন্য আলাপের সুযোগ দেওয়া হয়। প্রত্যেক রাউন্ডে ১৫ মিনিট সময় নিয়ে তারা একে অপরকে জানার চেষ্টা করেন। আয়োজকদের ভাষ্য অনুযায়ী, অংশগ্রহণকারীদের সবার পদবি এক হওয়ায় বিয়ের পর নাম পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়বে না—এটাই এই উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য।
জাপানের আইন অনুযায়ী, বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রীকে একই পারিবারিক নাম গ্রহণ করতে হয়। যদিও কোন পক্ষের নাম গ্রহণ করা হবে, সে বিষয়ে স্বাধীনতা রয়েছে, বাস্তবে প্রায় ৯৫ শতাংশ ক্ষেত্রে নারীদেরই পদবি পরিবর্তন করতে হয়। এই বাস্তবতা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই সমালোচনা চলছে।
অনেক নারী কর্মক্ষেত্রে নিজেদের আগের নাম ব্যবহার করলেও সরকারি নথিতে ব্যবহার করেন বিবাহ-পরবর্তী পদবি। এতে নানা প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়। ব্যবসায়ী ও পেশাজীবীদের মতে, আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করতে গিয়ে এই দ্বৈত পরিচয় সমস্যা সৃষ্টি করে।
জাতিসংঘের নারী বৈষম্যবিরোধী কমিটিও জাপানকে এই আইন পরিবর্তনের আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোও আলাদা পদবি ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পক্ষে মত দিয়েছে।
আয়োজকদের মতে, এই উদ্যোগের মাধ্যমে একটি গুরুত্বপূর্ণ সামাজিক সমস্যাকে সহজভাবে তুলে ধরা সম্ভব হচ্ছে। অনেক অংশগ্রহণকারী এই আয়োজনকে ভিন্নধর্মী ও কার্যকর একটি প্রচেষ্টা হিসেবে দেখছেন।
এক জরিপে দেখা গেছে, উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নারী-পুরুষ বিয়ের পর নিজের পদবি পরিবর্তনে অনাগ্রহী। এমনকি কেউ কেউ পদবি পরিবর্তনে রাজি না হলে সম্পর্ক ভেঙে দেওয়ার কথাও বলেছেন।
তবে জাপানের বর্তমান সরকার এখনো আইন পরিবর্তনে অনাগ্রহী। তাদের মতে, পারিবারিক কাঠামো রক্ষায় এই নিয়ম গুরুত্বপূর্ণ।
সিএ/এমআর


