গরমকালে ত্বক ঘামে ও কিছুটা তেলতেলে থাকে বলে অনেকেই মনে করেন, এই সময়ে বডি লোশন ব্যবহারের প্রয়োজন নেই। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ধারণা পুরোপুরি সঠিক নয়। বরং গরমেও ত্বককে সুস্থ রাখতে লোশন ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
উষ্ণ আবহাওয়ায় বাতাসে আর্দ্রতা বেশি থাকলেও ত্বকের ভেতরের পানি দ্রুত শুকিয়ে যায়। ঘামের কারণে শরীর থেকে পানি বের হয়ে ত্বক ধীরে ধীরে পানিশূন্য হয়ে পড়ে। ফলে লোশন ব্যবহার না করলে ত্বকের ক্ষতি হতে পারে।
অতিরিক্ত গরমে ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা হারিয়ে গিয়ে ত্বক শুষ্ক ও রুক্ষ দেখাতে পারে। বিশেষ করে যারা দীর্ঘ সময় শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে থাকেন, তাদের ত্বক দ্রুত ডিহাইড্রেটেড হয়ে যায়। তাই ত্বককে শুধু তেলতেলে না ভেবে হাইড্রেটেড রাখা জরুরি।
গরমকালে ব্যবহারের জন্য হালকা ও দ্রুত শোষণযোগ্য লোশন সবচেয়ে উপযোগী। ভারী লোশন ত্বকের রোমকূপ বন্ধ করে দিতে পারে, যা ব্রণসহ নানা সমস্যার কারণ হতে পারে। ওয়াটার-বেসড লোশন ত্বকে সহজে মিশে যায় এবং আঠালো অনুভূতি তৈরি করে না।
হায়ালুরোনিক অ্যাসিড ত্বকের ভেতরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করে। অ্যালোভেরা ও শসা ত্বককে শীতল করে এবং রোদে পোড়া ভাব কমায়। গ্লিসারিন ত্বকের আর্দ্রতা ধরে রেখে ত্বককে নরম রাখে।
লোশন ব্যবহারের ক্ষেত্রে গোসলের পর হালকা ভেজা ত্বকে ব্যবহার করলে তা ভালোভাবে শোষিত হয়। এছাড়া রাতে ঘুমানোর আগে ব্যবহার করলে ত্বক শুষ্ক হওয়া থেকে রক্ষা পায়।
বর্তমানে অনেক লোশনে সান প্রোটেকশন উপাদান যুক্ত থাকে, যা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে সুরক্ষা দেয়। তাই বাইরে যাওয়ার আগে এই ধরনের লোশন ব্যবহার উপকারী।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গরমে ত্বক ঘামে বলে লোশন ব্যবহার বন্ধ করা উচিত নয়। বরং সঠিক ধরনের হালকা ও হাইড্রেটিং লোশন ব্যবহার করলে ত্বক থাকবে সতেজ ও সুস্থ।
সিএ/এমআর


