শিশুর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ‘গুড টাচ’ ও ‘ব্যাড টাচ’ সম্পর্কে সচেতনতা তৈরি করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক অভিভাবকই দ্বিধায় থাকেন—এই বিষয়টি ছোট বয়সে শেখানো উচিত, নাকি বড় হওয়ার পর। অস্বস্তি বা সংকোচের কারণে অনেকেই বিষয়টি এড়িয়ে যান।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুর নিরাপত্তার স্বার্থে যত দ্রুত সম্ভব বয়সোপযোগীভাবে এই শিক্ষা শুরু করা প্রয়োজন। সাধারণত ২ থেকে ৩ বছর বয়স থেকেই শিশুকে শরীর সম্পর্কে প্রাথমিক ধারণা দেওয়া যেতে পারে।
এই বয়সে শিশুকে শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সঠিক নাম শেখানো উচিত। পাশাপাশি কোন অংশগুলো ব্যক্তিগত এবং অন্যদের স্পর্শ করা উচিত নয়, সেটিও সহজভাবে বোঝানো দরকার। এতে শিশু নিজের শরীর সম্পর্কে সচেতন হতে শুরু করে।
৪ থেকে ৫ বছর বয়সে শিশুকে ভালো ও খারাপ স্পর্শের পার্থক্য শেখানো যায়। কোন স্পর্শে স্বস্তি লাগে এবং কোনটি অস্বস্তিকর—এ বিষয়টি বোঝাতে হবে। একই সঙ্গে শিশুকে জানাতে হবে, অস্বস্তিকর স্পর্শ হলে ‘না’ বলা তার অধিকার।
৬ বছর বা তার বেশি বয়সে আত্মরক্ষার কৌশল শেখানো জরুরি হয়ে ওঠে। শিশুকে বোঝাতে হবে, কেউ গোপন রাখতে বললেও তা মানতে হবে না এবং সন্দেহজনক কোনো ঘটনা ঘটলে বিশ্বস্ত বড়দের জানানো উচিত।
গবেষণায় দেখা গেছে, ছোটবেলা থেকেই শরীর সম্পর্কে সচেতন শিশু অনাকাঙ্ক্ষিত স্পর্শের বিরুদ্ধে দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানাতে পারে। শিশু সুরক্ষা সংস্থাগুলোর মতে, বয়স অনুযায়ী সঠিক ভাষায় এই শিক্ষা দিলে তা মানসিক বিকাশে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে না, বরং আত্মবিশ্বাস বাড়ায়।
বিশেষজ্ঞরা আরও বলেন, এটি একদিনে শেখানোর বিষয় নয়; বরং নিয়মিত আলোচনার মাধ্যমে শিশুকে সচেতন করতে হয়। খোলামেলা পরিবেশ, গল্প বলা এবং নিয়মিত সংলাপ শিশুর বোঝাপড়া বাড়াতে সহায়ক।
সবশেষে অভিভাবকদের মনে রাখতে হবে, ভয় দেখিয়ে নয় বরং নিরাপত্তাবোধ তৈরি করে শিশুকে এই শিক্ষা দেওয়া উচিত, যাতে সে বুঝতে পারে তার শরীর তার নিজের এবং নিরাপদ থাকা তার অধিকার।
সিএ/এমআর


