ইরানে সাম্প্রতিক উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে ২১ মার্চ রাতে একটি বিশেষ ফ্লাইটে দেশে ফেরেন ১৮৬ জন বাংলাদেশি। তাঁদের মধ্যে একজন ছিলেন খাজা নাসির তুসি ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজির পুরকৌশল বিভাগের শিক্ষার্থী শাকিল হোসেন। তেহরান থেকে আজারবাইজান হয়ে দেশে ফেরার এই যাত্রা ছিল টানা ২১ দিনের অনিশ্চয়তা ও আতঙ্কে ভরা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ক্লাস চলাকালে আকস্মিক বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে ওঠে তেহরান। প্রথমে ভূমিকম্প মনে হলেও পরে জানা যায়, শহরের বিভিন্ন স্থানে হামলা হয়েছে। পরিস্থিতি দ্রুত অস্থিতিশীল হয়ে ওঠে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ শিক্ষার্থীদের হলে অবস্থান করার পরামর্শ দেয়, কারণ বাইরে নিরাপত্তা পরিস্থিতি ছিল অনিশ্চিত।
ক্রমাগত বিস্ফোরণ, আকাশে মিসাইলের শব্দ এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণে আতঙ্ক আরও বাড়তে থাকে। ইন্টারনেট ও মোবাইল নেটওয়ার্ক দুর্বল হয়ে যাওয়ায় পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীরা প্রয়োজন হলে আন্ডারগ্রাউন্ডে আশ্রয় নেওয়ার প্রস্তুতি নেয়।
পরিস্থিতি অবনতির দিকে গেলে বাংলাদেশ দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। দূতাবাস সাভেহ শহরে অস্থায়ীভাবে কার্যক্রম শুরু করে এবং বাংলাদেশিদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার উদ্যোগ নেয়। পরে বিভিন্ন দেশের সহযোগিতায় আজারবাইজান হয়ে দেশে ফেরার পরিকল্পনা করা হয়।
১৯ মার্চ ১৮৬ জনের জন্য ট্রাভেল পাস প্রস্তুত হয়। সেদিনই বাসে করে সবাই সীমান্তের উদ্দেশে রওনা দেন। তবে সীমান্তে পৌঁছে দেখা যায়, পরিস্থিতির কারণে কার্যক্রম বন্ধ। ঠান্ডা আবহাওয়ায় রাত কাটিয়ে পরদিন আনুষ্ঠানিকতা শেষে আজারবাইজানে প্রবেশ করা সম্ভব হয়।
সেখান থেকে বাকু বিমানবন্দরে নিয়ে যাওয়া হয় সবাইকে। পরে একটি বিশেষ ফ্লাইটে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হয়ে ২১ মার্চ গভীর রাতে দেশে পৌঁছান তাঁরা। দীর্ঘ অনিশ্চয়তা শেষে নিরাপদে ফিরে আসার অনুভূতি ছিল আবেগঘন।
বর্তমানে সংশ্লিষ্ট বিশ্ববিদ্যালয় দুই মাসের জন্য বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। শিক্ষাজীবনের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকলেও নিরাপদে দেশে ফেরাকে বড় স্বস্তি হিসেবে দেখছেন শিক্ষার্থীটি।
সিএ/এমআর


