ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার স্বপ্ন অনেক তরুণকে ঝুঁকিপূর্ণ পথে ঠেলে দিচ্ছে। সেই স্বপ্নের বলি হয়েছেন সুনামগঞ্জের শায়েক আহমদ, যিনি গ্রিসে যাওয়ার পথে প্রাণ হারিয়েছেন।
শায়েকের বাবা আখলুছ মিয়া জানান, দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার অভিজ্ঞতা থেকে তিনি চেয়েছিলেন ছেলে দেশে থেকেই পড়াশোনা করে জীবন গড়ুক। কিন্তু এলাকার অন্যদের দেখে ইউরোপ যাওয়ার প্রবণতা শায়েকের মধ্যেও তৈরি হয়। প্রথমে সার্বিয়ায় পাঠানোর চেষ্টা করা হলেও দালালের মাধ্যমে দেওয়া টাকা ফেরত পাওয়া যায়নি।
পরে আবার নতুন করে লিবিয়া হয়ে গ্রিস যাওয়ার পরিকল্পনা করা হয়। এজন্য পরিবারকে বড় অঙ্কের অর্থ জোগাড় করতে হয়। জমি ও গরু বিক্রি করে প্রায় ১২ লাখ টাকা দেওয়া হয় দালালদের। কয়েক মাস আগে শায়েক বাড়ি ছেড়ে লিবিয়ায় পৌঁছান।
সেখানে গিয়ে তিনি কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে পড়েন। একটি ঘরে অনেকজনকে গাদাগাদি করে রাখা, খাবারের অভাব, মারধর এবং টাকা আদায়ের জন্য নির্যাতন—সব মিলিয়ে ছিল এক ধরনের জিম্মি জীবন। পরিবারকে চাপ দিয়ে আরও টাকা আদায় করা হতো।
২১ মার্চ ছোট নৌকায় করে সমুদ্রপথে গ্রিসে যাওয়ার সময় পানি ও খাবারের অভাবে শায়েকসহ ২২ জনের মৃত্যু হয়। কয়েক দিন পর পরিবার এই খবর জানতে পারে।
বাবা আখলুছ মিয়ার কণ্ঠে শুধু শোক ও আফসোস। তিনি বলেন, ‘ছেলেটাকে শেষ দেখাও দেখতে পেলাম না।’
সিএ/এমআর


