শিশুর মানসিক বিকাশে বাবা-মায়ের আচরণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অনেক সময় অজান্তেই অভিভাবকদের কিছু ভুল অভ্যাস শিশুকে জেদি করে তোলে, যা ভবিষ্যতে বড় ধরনের আচরণগত সমস্যার কারণ হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, সাধারণত ৩ থেকে ৭ বছর বয়সী শিশুদের মধ্যে জেদি আচরণ বেশি দেখা যায়। এই সময় সঠিক দিকনির্দেশনা না পেলে তারা ধীরে ধীরে একগুঁয়ে হয়ে উঠতে পারে এবং কারও কথা শুনতে চায় না।
অভিভাবকদের অযথা রাগ প্রকাশ শিশুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এতে শিশুরা নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করতে ভয় পায় এবং মানসিক দূরত্ব তৈরি হয়। তাই রাগের পরিবর্তে ধৈর্য ধরে বোঝানো জরুরি।
শিশুর সব ইচ্ছা পূরণ করাও ক্ষতিকর হতে পারে। এতে তারা মনে করে সবকিছু সহজেই পাওয়া সম্ভব। ফলে না পেলে তারা অতিরিক্ত প্রতিক্রিয়া দেখায় এবং জেদ বাড়ে।
অনেক সময় দেখা যায়, বাবা-মা সন্তানের ভুল বা দুর্বলতা অন্যের সামনে তুলে ধরেন। এতে শিশুর আত্মসম্মানবোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং সে নেতিবাচক আচরণে অভ্যস্ত হয়ে ওঠে। তাই ব্যক্তিগতভাবে ভুল বুঝিয়ে দেওয়া প্রয়োজন।
এ ছাড়া শিশুর ভুল সম্পূর্ণ উপেক্ষা করাও ঠিক নয়। এতে তারা ভুলের পরিণতি সম্পর্কে সচেতন হয় না। আবার শারীরিক শাস্তি শিশুর আত্মবিশ্বাস নষ্ট করে এবং তাকে আরও জেদি করে তুলতে পারে।
শিশু বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ছোটবেলা থেকেই শিশুদের ধন্যবাদ দেওয়া, ভদ্র আচরণ করা এবং অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শেখানো উচিত। এতে তাদের আচরণ ইতিবাচকভাবে পরিবর্তিত হয়।
সিএ/এমআর


