সন্তানের প্রতি অতিরিক্ত ভালোবাসা ও স্নেহ কখনো কখনো তাদের ভবিষ্যতের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে—এমনই সতর্কতা দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। শিশুদের সব চাওয়া পূরণ করার প্রবণতা তাদের আত্মনির্ভরশীলতার পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
ভারতের ডায়াগনস্টিক ও প্রিভেন্টিভ প্রতিষ্ঠান থাইরোকেয়ারের প্রতিষ্ঠাতা ড. এ. ভেলুমনি বলেছেন, অতিরিক্ত আদর-আহ্লাদ শিশুদের ভবিষ্যৎ নষ্ট করতে পারে। তার মতে, অনেক অভিভাবক অজান্তেই এমন আচরণ করেন, যা সন্তানকে আত্মনির্ভরশীল না করে বরং নির্ভরশীল ও মানসিকভাবে দুর্বল করে তোলে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, অতিরিক্ত স্নেহে বড় হওয়া শিশুরা মনে করে, সবকিছুই তাদের প্রাপ্য। এ ধরনের মানসিকতা তাদের মধ্যে অহংকার তৈরি করে এবং তারা বিশ্বাস করতে শুরু করে যে পরিশ্রম ছাড়াই সবকিছু পাওয়া সম্ভব। কিন্তু বাস্তব জীবনে বাধা বা ব্যর্থতার মুখোমুখি হলে তারা সহজেই ভেঙে পড়ে।
শিশুদের শেখার প্রক্রিয়ায়ও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। যখন অভিভাবকরা সন্তানের সব সমস্যা নিজেরাই সমাধান করে দেন, তখন শিশুদের সমস্যা সমাধানের দক্ষতা গড়ে ওঠে না। ড. ভেলুমনি বলেন, যে শিশু নিজের সমস্যার সমাধান করতে শেখে, সে আত্মবিশ্বাসী ও দৃঢ় মানসিকতার হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, সবসময় সুরক্ষিত পরিবেশে বেড়ে ওঠা শিশুরা বিভ্রান্ত ও নির্ভরশীল হয়ে পড়ে।
অনেকে মনে করেন, অতিরিক্ত স্নেহ মানেই বিলাসিতা বা বেশি খরচ। তবে বিষয়টি শুধুমাত্র অর্থনৈতিক নয়। স্বল্প আয়ের পরিবারেও অতিরিক্ত প্রশ্রয়ের কারণে সন্তানের মানসিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের ছোট ছোট দায়িত্ব দেওয়া এবং ভুল করার সুযোগ দেওয়া জরুরি। এতে তারা ধীরে ধীরে আত্মবিশ্বাসী হয়ে ওঠে এবং আবেগ নিয়ন্ত্রণের ক্ষমতা অর্জন করে। অন্যদিকে, সবকিছু সহজে পেয়ে বড় হওয়া শিশুরা বাস্তব জীবনের চাপ সামলাতে হিমশিম খায় এবং সহজেই উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ে।
অভিভাবকদের জন্য পরামর্শ হিসেবে বলা হচ্ছে, সন্তানকে নিজের সমস্যার মুখোমুখি হতে দেওয়া, ভুল থেকে শেখার সুযোগ তৈরি করা এবং ধৈর্য ও কৃতজ্ঞতার শিক্ষা দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ছোটখাটো ঘরোয়া কাজে তাদের সম্পৃক্ত করা এবং সাফল্যের চেয়ে প্রচেষ্টাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
সন্তানকে সব ধরনের চ্যালেঞ্জ থেকে দূরে না রেখে বরং সেগুলোর মধ্য দিয়েই বেড়ে ওঠার সুযোগ করে দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সিএ/এমআর


