অনেকেই একা থাকলে নিজের সঙ্গে কথা বলেন—কখনো মনে মনে, কখনো উচ্চস্বরে। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজেকে উৎসাহ দেওয়া কিংবা কঠিন সিদ্ধান্তের আগে নিজের সঙ্গে আলোচনা করা—এসব অভ্যাস অনেকের মধ্যেই দেখা যায়। তবে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির কারণে অনেকেই এটিকে অস্বাভাবিক মনে করেন।
মনোবিজ্ঞানের ভাষায় এই আচরণকে ‘সেল্ফ-টক’ বলা হয়, যা মানুষের স্বাভাবিক মানসিক প্রক্রিয়ার অংশ। দৈনন্দিন জীবনে মানুষ নিজের কাজের পরিকল্পনা, আবেগ নিয়ন্ত্রণ কিংবা সিদ্ধান্ত গ্রহণের সময় নিজের সঙ্গে কথা বলে থাকে। বিশেষ করে চাপের মুহূর্তে এই প্রবণতা আরও বৃদ্ধি পায়।
গবেষণায় দেখা গেছে, নিজের সঙ্গে উচ্চস্বরে কথা বলা মনোযোগ ও স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সহায়তা করে। কোনো কিছু খোঁজার সময় নিজের কাছে প্রশ্ন করলে মস্তিষ্ক দ্রুত তথ্য খুঁজে বের করতে পারে।
নিজের সঙ্গে কথা বলার বেশ কিছু ইতিবাচক দিক রয়েছে। এটি মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে, আত্মবিশ্বাস বাড়ায় এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণকে সহজ করে তোলে। ইতিবাচক ভাষায় নিজের সঙ্গে কথা বলা পারফরম্যান্স উন্নত করতেও কার্যকর ভূমিকা রাখে।
তবে কিছু ক্ষেত্রে এটি উদ্বেগের কারণ হতে পারে। যদি কেউ বাস্তবতা থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে নিজের সঙ্গে কথা বলে, কণ্ঠস্বর শুনতে পায় বা আচরণ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়, তাহলে তা মানসিক সমস্যার লক্ষণ হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সঠিকভাবে চর্চা করলে নিজের সঙ্গে কথা বলা মানসিক সুস্থতার একটি অংশ হতে পারে। নেতিবাচক চিন্তা এড়িয়ে ইতিবাচক ও বাস্তবসম্মত ভাষা ব্যবহার করলে এটি আত্ম-উন্নয়নের কার্যকর উপায় হয়ে ওঠে।
সিএ/এমআর


