পবিত্র ঈদুল ফিতরের ছুটি শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে অনেকেই গ্রামে যাচ্ছেন বা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। তবে উৎসবের আনন্দের মধ্যেও সুস্থ থাকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ সময় বেশিরভাগ হাসপাতাল ও ক্লিনিকে জরুরি বিভাগ ছাড়া নিয়মিত চিকিৎসাসেবা সীমিত থাকে, ফলে ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যার ক্ষেত্রে নিজেই প্রাথমিক ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজন হয়।
রোজার পর হঠাৎ করে অতিরিক্ত ও চর্বিযুক্ত খাবার খাওয়ার কারণে অনেকের বদহজম দেখা দেয়। এর লক্ষণ হিসেবে পেটব্যথা, বুক জ্বালা, টক ঢেকুর বা পেট ফাঁপা অনুভূত হতে পারে। এ ক্ষেত্রে গ্যাস্ট্রিক ও রিফ্লাক্স কমানোর ওষুধ সেবন করা যেতে পারে। পাশাপাশি হালকা ও সহজপাচ্য খাবার খাওয়া, বেশি পানি পান করা উপকারী। কাঁচা বা সেদ্ধ আদা, মৌরি কিংবা বেকিং সোডা মিশ্রিত পানি অ্যাসিডিটি কমাতে সহায়তা করতে পারে।
ঈদের সময় অনিয়মিত খাদ্যাভ্যাসের কারণে ডায়রিয়াও হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে খাওয়ার স্যালাইন গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর অল্প অল্প করে স্যালাইন পান করতে হবে। ভাজাপোড়া খাবার এড়িয়ে ভেজানো চিড়া, পাতলা জাউ, কাঁচা কলা বা পেঁপের তরকারি খেলে উপকার পাওয়া যায়। শরীরে পানিশূন্যতা যেন না হয়, সেদিকে বিশেষ খেয়াল রাখতে হবে।
এ ছাড়া ঈদের ভিড়, যাতায়াত ও মানুষের সংস্পর্শে জ্বর-কাশির সংক্রমণও বাড়তে পারে। জ্বর হলে বিশ্রাম নেওয়া, প্যারাসিটামল সেবন এবং পর্যাপ্ত পানি পান করা প্রয়োজন। কাশির ক্ষেত্রে সাধারণ অ্যান্টিহিস্টামিন ও ভেষজ উপাদান যেমন তুলসী-আদা বা লেবু-আদা চা উপকারী হতে পারে।
অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবারের কারণে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। এ সমস্যা এড়াতে বেশি পানি পান, শাকসবজি ও ফলমূল খাওয়া এবং খাদ্যতালিকায় সালাদ রাখা জরুরি। প্রয়োজনে ইসবগুলের ভুষি, চিয়া সিড বা ফাইবারসমৃদ্ধ খাদ্য গ্রহণ করা যেতে পারে। সমস্যা বেশি হলে গ্লিসারিন সাপোজিটরি ব্যবহার করা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে ঈদের সময় খাদ্যাভ্যাসে সংযম ও সচেতনতা বজায় রাখলে এসব ছোটখাটো স্বাস্থ্য সমস্যা সহজেই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।
সিএ/এমআর


