শিশু হঠাৎ রেগে গেলে বা কান্না শুরু করলে অনেক সময় অভিভাবকরা দ্রুত তাকে থামাতে চেষ্টা করেন। কিন্তু সেই মুহূর্তে শিশুরা সাধারণত কোনো নির্দেশনা বা উপদেশ গ্রহণ করতে পারে না।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এমন পরিস্থিতিতে সবচেয়ে কার্যকর উপায় হলো স্নেহপূর্ণ স্পর্শ। কোমল স্পর্শ শিশুর স্নায়ুতন্ত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে এবং তাকে দ্রুত শান্ত হতে সাহায্য করে।
গবেষণায় দেখা গেছে, মাথায় হাত বুলিয়ে দেওয়া বা কাঁধে আলতো স্পর্শ শরীরে স্ট্রেস হরমোন কমায় এবং অক্সিটোসিন হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায়, যা স্বস্তি ও নিরাপত্তার অনুভূতি তৈরি করে।
মনোবিজ্ঞানীরা কো-রেগুলেশন ধারণার কথাও উল্লেখ করেছেন। এতে বলা হয়, শিশুরা বড়দের আচরণ দেখে নিজেদের আবেগ নিয়ন্ত্রণ করতে শেখে। তাই মা-বাবার শান্ত ও সহানুভূতিশীল আচরণ শিশুর মানসিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
অত্যন্ত অস্থির অবস্থায় শিশুকে প্রথমে শান্ত করা জরুরি। এরপর ধীরে ধীরে তাকে বোঝানো সম্ভব হয়। এ সময় নরম স্বরে কথা বলা, পাশে থাকা এবং প্রয়োজনে আলতো করে জড়িয়ে ধরা কার্যকর হতে পারে।
শিশুর কাছে সবচেয়ে বড় নিরাপত্তা তার বাবা-মায়ের উপস্থিতি ও ভালোবাসা। তাই সঠিক আচরণের মাধ্যমে তার আবেগ নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করা সম্ভব।
সূত্র: হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুল, আমেরিকান একাডেমি অব পেডিয়াট্রিকস, ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব মেন্টাল হেলথ
সিএ/এমআর


